০৫:৫১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
সুনামগঞ্জে আলোচিত মামলা

মৌলা বক্স করিম বক্স,কোম্পানির অর্থ আত্মসাৎ মামলায় প্রধান অভিযুক্ত -বিজয় কুমার বৈদ্যের জামিন নামঞ্জুর, আদালতের নির্দেশে কারাগারে প্রেরণ….

স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময়ঃ ০৭:০২:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
  • / ১৭ বার পড়া হয়েছে।

হকবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট;

সুনামগঞ্জ ।। ২৮ অক্টোবর ২০২৬

 

সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স মৌলা বক্স করিম বক্স’ (বিকাশ ডিস্ট্রিবিউশন)-এর প্রায় ১ কোটি ৮৬ লাখ টাকা আত্মসাতের মামলার প্রধান অভিযুক্ত ও প্রতিষ্ঠানের ক্যাশিয়ার বিজয় কুমার বৈদ্যের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

 

 

এর আগে সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে সুনামগঞ্জ পৌর শহরের পূর্ব নতুনপাড়া এলাকা থেকে বাদীপক্ষের লোকজন পলাতক অবস্থায় তাকে আটক করে সদর মডেল থানায় সোপর্দ করেন। পরবর্তীতে আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়।

 

 

মামলার বিবরণ ও সূত্রপাত:

মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, দিরাই পৌর শহরের সেন মার্কেটে অবস্থিত বিকাশ ডিস্ট্রিবিউশন প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স মৌলা বক্স করিম বক্স’-এর অভ্যন্তরীণ হিসাব নিরীক্ষায় (অডিট) ১ কোটি ৮৬ লাখ ১ হাজার ৬৫৫ টাকার বিশাল গরমিল ধরা পড়ে। এই আর্থিক অনিয়মের ঘটনায় প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার মো. আশরাফুল আলম বাদী হয়ে দিরাই আমলগ্রহণকারী জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি সি.আর. মামলা (নম্বর: ৭৮/২০২৬) দায়ের করেন।

 

মামলায় প্রতিষ্ঠানটির ক্যাশিয়ার বিজয় কুমার বৈদ্যকে ১ নম্বর এবং অফিস ইনচার্জ রুবেল তালুকদারকে ২ নম্বর আসামি করা হয়েছে। এছাড়া রাজীব তালুকদার ও ভানু সরকারকেও মামলায় আসামি করা হয়েছে। আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৮, ৪২০, ৪০৬ ও ৩৪ ধারায় অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ, প্রতারণা এবং যৌথভাবে অপরাধ সংঘটনের অভিযোগ আনা হয়েছে।

 

 

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, আসামিরা পারস্পরিক যোগসাজশে প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক তহবিলের বড় অঙ্কের অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। পরবর্তীতে অডিটে অনিয়ম ধরা পড়ার পর আসামিরা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ধাপে ধাপে পুরো অর্থ পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দিয়ে নন-জুডিসিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষরও করেছিলেন। তবে নির্ধারিত সময় পার হলেও তারা প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করে অর্থ পরিশোধে টালবাহানা শুরু করেন। বাধ্য হয়ে বকেয়া অর্থ উদ্ধার ও আইনি প্রতিকার পেতে আদালতের দারস্থ হয় ডিস্ট্রিবিউশন কর্তৃপক্ষ।

 

আটক ও থানা হস্তান্তর:

সোমবার দুপুরে পৌর শহরের পূর্ব নতুনপাড়া এলাকায় মামলার প্রধান আসামি বিজয় কুমার বৈদ্যকে ঘোরাফেরা করতে দেখে বাদীপক্ষের লোকজন তাকে হাতেনাতে আটক করে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানায় নিয়ে যান।

 

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রতন শেখ, পিপিএম জানান, “পূর্ব নতুনপাড়া এলাকা থেকে স্থানীয় লোকজনের মাধ্যমে সি.আর. মামলার ১ নম্বর আসামিকে থানায় নিয়ে আসা হয়েছিল। পরবর্তীতে নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাঁকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়।”

 

পরবর্তীতে আদালতে হাজির করা হলে শুনানি শেষে বিচারক তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এই মামলার অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারে আইনগত প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।

ট্যাগসঃ

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

সুনামগঞ্জে আলোচিত মামলা

মৌলা বক্স করিম বক্স,কোম্পানির অর্থ আত্মসাৎ মামলায় প্রধান অভিযুক্ত -বিজয় কুমার বৈদ্যের জামিন নামঞ্জুর, আদালতের নির্দেশে কারাগারে প্রেরণ….

আপডেট সময়ঃ ০৭:০২:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

হকবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট;

সুনামগঞ্জ ।। ২৮ অক্টোবর ২০২৬

 

সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স মৌলা বক্স করিম বক্স’ (বিকাশ ডিস্ট্রিবিউশন)-এর প্রায় ১ কোটি ৮৬ লাখ টাকা আত্মসাতের মামলার প্রধান অভিযুক্ত ও প্রতিষ্ঠানের ক্যাশিয়ার বিজয় কুমার বৈদ্যের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

 

 

এর আগে সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে সুনামগঞ্জ পৌর শহরের পূর্ব নতুনপাড়া এলাকা থেকে বাদীপক্ষের লোকজন পলাতক অবস্থায় তাকে আটক করে সদর মডেল থানায় সোপর্দ করেন। পরবর্তীতে আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়।

 

 

মামলার বিবরণ ও সূত্রপাত:

মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, দিরাই পৌর শহরের সেন মার্কেটে অবস্থিত বিকাশ ডিস্ট্রিবিউশন প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স মৌলা বক্স করিম বক্স’-এর অভ্যন্তরীণ হিসাব নিরীক্ষায় (অডিট) ১ কোটি ৮৬ লাখ ১ হাজার ৬৫৫ টাকার বিশাল গরমিল ধরা পড়ে। এই আর্থিক অনিয়মের ঘটনায় প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার মো. আশরাফুল আলম বাদী হয়ে দিরাই আমলগ্রহণকারী জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি সি.আর. মামলা (নম্বর: ৭৮/২০২৬) দায়ের করেন।

 

মামলায় প্রতিষ্ঠানটির ক্যাশিয়ার বিজয় কুমার বৈদ্যকে ১ নম্বর এবং অফিস ইনচার্জ রুবেল তালুকদারকে ২ নম্বর আসামি করা হয়েছে। এছাড়া রাজীব তালুকদার ও ভানু সরকারকেও মামলায় আসামি করা হয়েছে। আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৮, ৪২০, ৪০৬ ও ৩৪ ধারায় অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ, প্রতারণা এবং যৌথভাবে অপরাধ সংঘটনের অভিযোগ আনা হয়েছে।

 

 

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, আসামিরা পারস্পরিক যোগসাজশে প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক তহবিলের বড় অঙ্কের অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। পরবর্তীতে অডিটে অনিয়ম ধরা পড়ার পর আসামিরা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ধাপে ধাপে পুরো অর্থ পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দিয়ে নন-জুডিসিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষরও করেছিলেন। তবে নির্ধারিত সময় পার হলেও তারা প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করে অর্থ পরিশোধে টালবাহানা শুরু করেন। বাধ্য হয়ে বকেয়া অর্থ উদ্ধার ও আইনি প্রতিকার পেতে আদালতের দারস্থ হয় ডিস্ট্রিবিউশন কর্তৃপক্ষ।

 

আটক ও থানা হস্তান্তর:

সোমবার দুপুরে পৌর শহরের পূর্ব নতুনপাড়া এলাকায় মামলার প্রধান আসামি বিজয় কুমার বৈদ্যকে ঘোরাফেরা করতে দেখে বাদীপক্ষের লোকজন তাকে হাতেনাতে আটক করে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানায় নিয়ে যান।

 

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রতন শেখ, পিপিএম জানান, “পূর্ব নতুনপাড়া এলাকা থেকে স্থানীয় লোকজনের মাধ্যমে সি.আর. মামলার ১ নম্বর আসামিকে থানায় নিয়ে আসা হয়েছিল। পরবর্তীতে নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাঁকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়।”

 

পরবর্তীতে আদালতে হাজির করা হলে শুনানি শেষে বিচারক তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এই মামলার অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারে আইনগত প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।