০৫:৪১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬
যুক্তরাজ্যের নতুন সার্ভিস সাপ্লায়ার ভিসা স্কিমঃ

বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য সহজ হলো যুক্তরাজ্য যাওয়ার সুযোগ

হক বার্তা ডেস্ক রিপোর্টঃ
  • আপডেট সময়ঃ ০৯:৫০:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
  • / ৩৭ বার পড়া হয়েছে।

‎ব্র্যাকজিট-পরবর্তী সময়ে যুক্তরাজ্যে দক্ষ জনবলের ঘাটতি পূরণের ধারাবাহিকতায় নতুন একটি ওয়ার্ক পারমিট স্কিম ঘোষণা করেছে ব্রিটিশ সরকার। 

‎এই স্কিমের আওতায় বাংলাদেশের মতো বিভিন্ন দেশের কোম্পানিগুলোর চুক্তিভিত্তিক দক্ষ কর্মীরা খুব সহজেই স্বল্প মেয়াদে যুক্তরাজ্যে যাওয়ার সুযোগ পাবেন। নতুন এই ভিসাটির আনুষ্ঠানিক নাম দেওয়া হয়েছে ‘বিজনেস মোবিলিটি সার্ভিস সাপ্লায়ার ভিসা’ (Business Mobility Service Supplier Visa)।

‎

‎

ভিসার মেয়াদ ও সুযোগ-সুবিধা

· ‎মেয়াদ: এই ভিসার আওতায় যুক্তরাজ্যে সাধারণত ৬ থেকে ১২ মাস পর্যন্ত অবস্থান করা সম্ভব।

· ‎পরিবার বা ডিপেন্ডেন্ট: এই ভিসাধারীরা চাইলে তাদের পরিবারের সদস্যদেরও যুক্তরাজ্য সাথে নিয়ে আসতে পারবেন।

· ‎স্থায়ী হওয়ার সুযোগ নেই: হোম অফিসের নিয়ম অনুযায়ী, এই ভিসার মাধ্যমে যুক্তরাজ্যে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ বা দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সুযোগ নেই। এটি একটি সম্পূর্ণ অস্থায়ী (Temporary) স্কিম।

‎

‎

‎কাদের জন্য প্রযোজ্য?

‎যেসব ব্রিটিশ কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশের মতো বাইরের দেশের কোনো কোম্পানির কাছ থেকে বাণিজ্যিক চুক্তির ভিত্তিতে সেবা (Service Contract) বা সহায়তা নিয়ে থাকে, মূলত সেইসব কোম্পানির ফুল-টাইম কর্মী বা স্বতন্ত্র পেশাজীবী (Self-employed) হিসেবে কর্মরত ব্যক্তিরা এই স্কিমের আওতায় যুক্তরাজ্যে কর্মী হিসেবে যেতে পারবেন।

‎স্বীকৃত ট্র্যাক রেকর্ড এবং বৈধ ওয়ার্ক পারমিট লাইসেন্সধারী ব্রিটিশ কোম্পানিগুলো এই স্কিমের আওতায় বাইরের দেশ থেকে স্বল্পমেয়াদে কর্মী স্পন্সর করতে পারবে।

‎

‎তবে হোম অফিস সতর্ক করে জানিয়েছে যে, এই স্কিমের অপব্যবহার রোধে ব্রিটিশ সরকার অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিয়েছে। কেউ এই স্কিম অপব্যবহার করার চেষ্টা করলে সংশ্লিষ্ট ব্রিটিশ কোম্পানির বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

‎

‎সার্ভিস সাপ্লায়ার ভিসা সংক্রান্ত অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:

· ‎সার্ভিস সাপ্লায়ার ভিসা কী?

‎ যদি বাংলাদেশের কোনো কোম্পানি যুক্তরাজ্যের কোনো ক্লায়েন্ট বা কোম্পানির সাথে সেবা বিক্রির চুক্তি করে, অথবা আপনি নিজে একজন স্বাধীন পেশাজীবী হন এবং কোনো ব্রিটিশ কোম্পানির সাথে চুক্তি থাকে, তবে সেই চুক্তির কাজ সাময়িকভাবে যুক্তরাজ্যে গিয়ে সম্পন্ন করার জন্য এই ভিসা দেওয়া হয়।

 

· ‎আবেদনের মূল শর্তাবলি (Eligibility):

1. ‎আন্তর্জাতিক বাণিজ্য চুক্তি: যুক্তরাজ্যে প্রদত্ত কাজটি দেশটির আন্তর্জাতিক বাণিজ্য চুক্তির আওতাভুক্ত এবং UK Home Office কর্তৃক স্বীকৃত হতে হবে।

2. ‎সার্টিফিকেট অব স্পন্সরশিপ (CoS): যুক্তরাজ্যের লাইসেন্সপ্রাপ্ত কোনো স্পন্সর বা কোম্পানি কর্তৃক ইস্যুকৃত CoS (ইলেকট্রনিক রেফারেন্স নম্বর) থাকতে হবে।

3. ‎কাজের অভিজ্ঞতা: চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অধীনে যুক্তরাজ্যের বাইরে কমপক্ষে ১২ মাস কাজের অভিজ্ঞতা এবং স্বতন্ত্র পেশাজীবীদের ক্ষেত্রে একই ফিল্ডে ন্যূনতম ১২ মাসের কাজের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।

4. ‎শিক্ষাগত যোগ্যতা ও দক্ষতা: কাজটি একটি নির্দিষ্ট যোগ্যতার (Eligible Occupation Code) হতে হবে। অথবা প্রাসঙ্গিক বিষয়ে ন্যূনতম ব্যাচেলর ডিগ্রি বা সমমানের কারিগরি যোগ্যতা এবং ৩ থেকে ৬ বছরের পেশাদার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।

 

· ‎খরচ এবং আর্থিক প্রয়োজনীয়তা:

· ‎ভিসা আবেদন ফি: আনুমানিক ৩৪০ পাউন্ড (£340)।

· ‎হেলথ সারচার্জ (IHS): প্রতি বছর বা মেয়াদের জন্য আনুমানিক ১,০৩৫ পাউন্ড (£1,035)।

· ‎ব্যাংক ব্যালেন্স: ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে কমপক্ষে ১,২৭০ পাউন্ড (টানা ২৮ দিন জমা থাকতে হবে)। তবে ইউকে স্পন্সর প্রতিষ্ঠান যদি খরচের দায়িত্ব নেয়, তবে এটি বাধ্যতামূলক নয়।

‎

· ‎প্রয়োজনীয় কাগজপত্র:

· ‎CoS রেফারেন্স নম্বর।

· ‎বৈধ পাসপোর্ট।

· ‎অন্তত ১২ মাসের চাকরির প্রমাণ (যেমন: পে-স্লিপ, ব্যাংক স্টেটমেন্ট, নিয়োগপত্র)।

· ‎শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ ও অভিজ্ঞতা পত্র।

· ‎মেডিকেল ও যক্ষ্মা (TB Test) পরীক্ষার রিপোর্ট।

 

· ‎আবেদনের প্রক্রিয়া:

1. ‎যুক্তরাজ্যের স্পন্সর থেকে CoS সংগ্রহ করা।

2. ‎GOV.UK-এর অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে অনলাইনে আবেদন ফরম পূরণ করা।

3. ‎ভিসা ও IHS ফি পরিশোধ করা।

4. ‎ভিএফএস গ্লোবাল (VFS Global – ঢাকা/সিলেট) কেন্দ্রে বায়োমেট্রিক প্রদান এবং কাগজপত্র জমা দেওয়া।

‎

‎

‎

‎

‎

‎AJR#

ট্যাগসঃ

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

যুক্তরাজ্যের নতুন সার্ভিস সাপ্লায়ার ভিসা স্কিমঃ

বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য সহজ হলো যুক্তরাজ্য যাওয়ার সুযোগ

আপডেট সময়ঃ ০৯:৫০:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

‎ব্র্যাকজিট-পরবর্তী সময়ে যুক্তরাজ্যে দক্ষ জনবলের ঘাটতি পূরণের ধারাবাহিকতায় নতুন একটি ওয়ার্ক পারমিট স্কিম ঘোষণা করেছে ব্রিটিশ সরকার। 

‎এই স্কিমের আওতায় বাংলাদেশের মতো বিভিন্ন দেশের কোম্পানিগুলোর চুক্তিভিত্তিক দক্ষ কর্মীরা খুব সহজেই স্বল্প মেয়াদে যুক্তরাজ্যে যাওয়ার সুযোগ পাবেন। নতুন এই ভিসাটির আনুষ্ঠানিক নাম দেওয়া হয়েছে ‘বিজনেস মোবিলিটি সার্ভিস সাপ্লায়ার ভিসা’ (Business Mobility Service Supplier Visa)।

‎

‎

ভিসার মেয়াদ ও সুযোগ-সুবিধা

· ‎মেয়াদ: এই ভিসার আওতায় যুক্তরাজ্যে সাধারণত ৬ থেকে ১২ মাস পর্যন্ত অবস্থান করা সম্ভব।

· ‎পরিবার বা ডিপেন্ডেন্ট: এই ভিসাধারীরা চাইলে তাদের পরিবারের সদস্যদেরও যুক্তরাজ্য সাথে নিয়ে আসতে পারবেন।

· ‎স্থায়ী হওয়ার সুযোগ নেই: হোম অফিসের নিয়ম অনুযায়ী, এই ভিসার মাধ্যমে যুক্তরাজ্যে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ বা দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সুযোগ নেই। এটি একটি সম্পূর্ণ অস্থায়ী (Temporary) স্কিম।

‎

‎

‎কাদের জন্য প্রযোজ্য?

‎যেসব ব্রিটিশ কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশের মতো বাইরের দেশের কোনো কোম্পানির কাছ থেকে বাণিজ্যিক চুক্তির ভিত্তিতে সেবা (Service Contract) বা সহায়তা নিয়ে থাকে, মূলত সেইসব কোম্পানির ফুল-টাইম কর্মী বা স্বতন্ত্র পেশাজীবী (Self-employed) হিসেবে কর্মরত ব্যক্তিরা এই স্কিমের আওতায় যুক্তরাজ্যে কর্মী হিসেবে যেতে পারবেন।

‎স্বীকৃত ট্র্যাক রেকর্ড এবং বৈধ ওয়ার্ক পারমিট লাইসেন্সধারী ব্রিটিশ কোম্পানিগুলো এই স্কিমের আওতায় বাইরের দেশ থেকে স্বল্পমেয়াদে কর্মী স্পন্সর করতে পারবে।

‎

‎তবে হোম অফিস সতর্ক করে জানিয়েছে যে, এই স্কিমের অপব্যবহার রোধে ব্রিটিশ সরকার অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিয়েছে। কেউ এই স্কিম অপব্যবহার করার চেষ্টা করলে সংশ্লিষ্ট ব্রিটিশ কোম্পানির বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

‎

‎সার্ভিস সাপ্লায়ার ভিসা সংক্রান্ত অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:

· ‎সার্ভিস সাপ্লায়ার ভিসা কী?

‎ যদি বাংলাদেশের কোনো কোম্পানি যুক্তরাজ্যের কোনো ক্লায়েন্ট বা কোম্পানির সাথে সেবা বিক্রির চুক্তি করে, অথবা আপনি নিজে একজন স্বাধীন পেশাজীবী হন এবং কোনো ব্রিটিশ কোম্পানির সাথে চুক্তি থাকে, তবে সেই চুক্তির কাজ সাময়িকভাবে যুক্তরাজ্যে গিয়ে সম্পন্ন করার জন্য এই ভিসা দেওয়া হয়।

 

· ‎আবেদনের মূল শর্তাবলি (Eligibility):

1. ‎আন্তর্জাতিক বাণিজ্য চুক্তি: যুক্তরাজ্যে প্রদত্ত কাজটি দেশটির আন্তর্জাতিক বাণিজ্য চুক্তির আওতাভুক্ত এবং UK Home Office কর্তৃক স্বীকৃত হতে হবে।

2. ‎সার্টিফিকেট অব স্পন্সরশিপ (CoS): যুক্তরাজ্যের লাইসেন্সপ্রাপ্ত কোনো স্পন্সর বা কোম্পানি কর্তৃক ইস্যুকৃত CoS (ইলেকট্রনিক রেফারেন্স নম্বর) থাকতে হবে।

3. ‎কাজের অভিজ্ঞতা: চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অধীনে যুক্তরাজ্যের বাইরে কমপক্ষে ১২ মাস কাজের অভিজ্ঞতা এবং স্বতন্ত্র পেশাজীবীদের ক্ষেত্রে একই ফিল্ডে ন্যূনতম ১২ মাসের কাজের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।

4. ‎শিক্ষাগত যোগ্যতা ও দক্ষতা: কাজটি একটি নির্দিষ্ট যোগ্যতার (Eligible Occupation Code) হতে হবে। অথবা প্রাসঙ্গিক বিষয়ে ন্যূনতম ব্যাচেলর ডিগ্রি বা সমমানের কারিগরি যোগ্যতা এবং ৩ থেকে ৬ বছরের পেশাদার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।

 

· ‎খরচ এবং আর্থিক প্রয়োজনীয়তা:

· ‎ভিসা আবেদন ফি: আনুমানিক ৩৪০ পাউন্ড (£340)।

· ‎হেলথ সারচার্জ (IHS): প্রতি বছর বা মেয়াদের জন্য আনুমানিক ১,০৩৫ পাউন্ড (£1,035)।

· ‎ব্যাংক ব্যালেন্স: ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে কমপক্ষে ১,২৭০ পাউন্ড (টানা ২৮ দিন জমা থাকতে হবে)। তবে ইউকে স্পন্সর প্রতিষ্ঠান যদি খরচের দায়িত্ব নেয়, তবে এটি বাধ্যতামূলক নয়।

‎

· ‎প্রয়োজনীয় কাগজপত্র:

· ‎CoS রেফারেন্স নম্বর।

· ‎বৈধ পাসপোর্ট।

· ‎অন্তত ১২ মাসের চাকরির প্রমাণ (যেমন: পে-স্লিপ, ব্যাংক স্টেটমেন্ট, নিয়োগপত্র)।

· ‎শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ ও অভিজ্ঞতা পত্র।

· ‎মেডিকেল ও যক্ষ্মা (TB Test) পরীক্ষার রিপোর্ট।

 

· ‎আবেদনের প্রক্রিয়া:

1. ‎যুক্তরাজ্যের স্পন্সর থেকে CoS সংগ্রহ করা।

2. ‎GOV.UK-এর অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে অনলাইনে আবেদন ফরম পূরণ করা।

3. ‎ভিসা ও IHS ফি পরিশোধ করা।

4. ‎ভিএফএস গ্লোবাল (VFS Global – ঢাকা/সিলেট) কেন্দ্রে বায়োমেট্রিক প্রদান এবং কাগজপত্র জমা দেওয়া।

‎

‎

‎

‎

‎

‎AJR#