১০:২৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
সম্পাদকীয়-কলাম

এক কোটি টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ: প্রশ্নের মুখে এমপি নুরুলের ভূমিকা! ‎অনেক হয়েছে খবর প্রচার, এইবার উপসংহার টানা দরকার !

সম্পাদকীয় কলাম.!
  • আপডেট সময়ঃ ০৮:৫০:৩৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
  • / ৯৮ বার পড়া হয়েছে।

 

সুনামগঞ্জ। ২৯ অক্টোবর ২০২৬

‎বিস্তারিত ;

‎

‎সুনামগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম নুরুলের বিরুদ্ধে এক কোটি টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ তুলেছেন এক ঠিকাদার। অন্যদিকে, সংসদ সদস্যের বক্তব্য—রাস্তার কাজে অনিয়ম দেখে তিনি কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন। ঠিকাদারের লিখিত অভিযোগ ও প্রকাশিত সংবাদকে কেন্দ্র করে জনমনে নানা প্রশ্নের উদয় হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণ করবে নিরপেক্ষ তদন্ত; তবে এই ঘটনাপ্রবাহের অসংগতিগুলোর জবাবও জরুরি।

‎

‎জনমনে উত্থাপিত ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন;

‎১. রাস্তার কাজ বন্ধ করার আইনগত ক্ষমতা কার?

‎একজন সংসদ সদস্য কি নিজেই রাস্তার কাজ বন্ধ করে দিতে পারেন, নাকি সংশ্লিষ্ট প্রকৌশল বিভাগ ও প্রশাসনের মাধ্যমে তদন্ত ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়াই তাঁর করণীয়?

‎

 

‎২. কাজ বন্ধের পর ঠিকাদারের সঙ্গে যোগাযোগের উদ্দেশ্য কী ছিল?

‎সংসদ সদস্যের বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি অনিয়ম দেখে কাজ বন্ধ করেছেন। তাহলে তাঁর কথিত সহযোগীর মাধ্যমে ঠিকাদারকে যোগাযোগের জন্য ফোন করার অভিযোগ কেন উঠল? বিষয়টির স্বচ্ছ ব্যাখ্যা কোথায়?

‎

‎৩. এক কোটি টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত কোথায়?

‎ঠিকাদার লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলে যে দাবি সামনে এসেছে, সেটির তদন্তের অগ্রগতি কী? অভিযোগটি সত্য নাকি মিথ্যা—তা প্রমাণের ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হচ্ছে কি?

‎

‎

‎৪. সংসদ সদস্য নিজেকে নির্দোষ মনে করলে আইনি প্রতিকারের উদ্যোগ কোথায়?

‎এমন গুরুতর অভিযোগ তাঁর ব্যক্তিগত সম্মান ও জনপ্রতিনিধি হিসেবে ভাবমূর্তির ওপর আঘাত হানতে পারে। তিনি যদি অভিযোগটিকে মিথ্যা বলে দাবি করেন, তাহলে আইনানুগ প্রতিকার ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্য প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ কতটা দৃশ্যমান?

‎

‎৫. ঠিকাদারকে ‘ফ্যাসিস্টের দোসর’ বললেই কি তাঁর অভিযোগ বাতিল হয়ে যায়?

‎ঠিকাদারের রাজনৈতিক পরিচয় কিংবা কাজের অনিয়মের অভিযোগ আলাদাভাবে তদন্তযোগ্য। কিন্তু রাজনৈতিক তকমা দিয়ে তাঁর অভিযোগ খারিজ করা যায় না। প্রতিটি অভিযোগের জবাব তথ্য-দিয়েই দিতে হবে।

‎

‎৬. অন্যান্য অনিয়মের অভিযোগেও জবাবদিহি কোথায়?

‎সুনামগঞ্জে বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ে সময়ে সময়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়। সেসব বিষয়ে কার্যকর তদন্ত ‎ ও দৃশ্যমান জবাবদিহি কতটা নিশ্চিত হয়েছ ?একটি রাস্তার কাজ ঘিরেই বা কেন এতো বিতর্ক?

‎

‎

‎ অভিযোগ নয়, আমরা চাই সত্যের নিষ্পত্তি ;

‎একজন মানুষ পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়েন কি না, সেটি তাঁর ব্যক্তিগত ধর্মাচরণের বিষয়। কিন্তু ধর্মীয় পরিচয় কিংবা রাজনৈতিক পদমর্যাদা—কোনোটিই কাউকে অভিযোগের ঊর্ধ্বে রাখে না। একইভাবে, অভিযোগ উঠলেই কাউকে অপরাধী ঘোষণা করাও ন্যায়সংগত নয়।

‎

‎এখানে প্রশ্ন হলো, সংসদ সদস্যের বক্তব্য যদি সত্য হয়, তাহলে অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে নিরপেক্ষ তদন্ত ও আইনানুগ প্রক্রিয়াকে সামনে আনা হচ্ছে কি না। পাল্টাপাল্টি বক্তব্য, ব্যক্তিগত আক্রমণ কিংবা কথিত সহযোগীদের বক্তব্যের মধ্যেই বিষয়টি সীমাবদ্ধ থাকলে জনমনে সংশয় আরও বাড়বে।

 

‎অপরদিকে, ঠিকাদার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে লিখিত আবেদন করেছেন বলে যে দাবি সামনে এসেছে, সেটিও যথাযথভাবে যাচাই করা জরুরি। তিনি কাজের অনিয়মে অভিযুক্ত হয়ে থাকলেও তাঁর অভিযোগ জানানোর অধিকার অক্ষুণ্ণ থাকে। অভিযোগের সত্যতা নির্ধারিত হবে প্রমাণ ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমেই।

‎

‎

‎•অনেক হয়েছে খবর প্রচার, এইবার উপসংহার টানা দরকার !

‎সুনামগঞ্জে অনিয়ম, দুর্নীতি, অর্থ লোপাট কিংবা ক্ষমতার অপব্যবহার নিয়ে বছরের পর বছর অভিযোগ ওঠে। সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়, পাল্টাপাল্টি বক্তব্য চলে, জনমনে আলোচনা তৈরি হয়। এরপর একসময় সবকিছু যেন নীরবে থেমে যায়। জনগণ আর জানতে পারে না—অভিযোগের সত্যতা কী, দায়ী কে, আর তদন্তের ফলই বা কী হলো!

‎

‎এই অস্বচ্ছতার সুযোগেই কি অনিয়ম ক্রমশ বাড়ছে না? একজন আরেকজনের বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকা লোপাটের অভিযোগ তুলবেন, অথচ সত্য উদ্ঘাটনের আগেই বিষয়টি লোকচক্ষুর আড়ালে চলে যাবে—এ সংস্কৃতি আর কত দিন চলবে?

‎

‎২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশে আমরা পুরোনো সেই সংস্কৃতি দেখতে চাই না, যেখানে অভিযোগ ওঠে, পাল্টাপাল্টি বক্তব্য চলে, তারপর সবকিছু অন্ধকারে হারিয়ে যায়। আমরা চাই না, অভিযোগের নিষ্পত্তি না করেই বিষয়টি ধামাচাপা পড়ে থাকুক।

‎

‎সুনামগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য- নুরুল ইসলাম নুরুলের বিরুদ্ধে ওঠা এক কোটি টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগের ক্ষেত্রেও আমাদের অবস্থান স্পষ্ট—তিনি দোষী, নাকি অভিযোগটি অসত্য, তা নির্ধারণ করতে হবে নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রমাণের ভিত্তিতে। কিন্তু সেই নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বিষয়টি যেন পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের ভিড়ে হারিয়ে না যায়।

‎

‎”দৈনিক হক বার্তার” অঙ্গীকার, সংবাদ প্রকাশ করেই দায়িত্ব শেষ নয়; অভিযোগের পরিণতি কী হলো, সেটিও জনগণকে জানাতে হবে। কারণ, জবাবদিহি ছাড়া সংবাদ ক্ষণস্থায়ী আলোচনা হয়ে থাকে, আর জবাবদিহি প্রতিষ্ঠিত হলে সংবাদ হয়ে ওঠে পরিবর্তনের হাতিয়ার।

‎

‎আমাদের প্রশ্ন কাউকে হেয় করা নয়; আমাদের দাবি—সত্যের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি।

‎”দৈনিক হক বার্তা” (অন্তরালের খবর), সুনামগঞ্জের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান—অভিযোগটির নিরপেক্ষ তদন্ত করুন, প্রমাণের ভিত্তিতে আইনানুগ ব্যবস্থা নিন এবং তদন্তের ফল জনগণের সামনে প্রকাশ করুন।

‎

‎অনেক হয়েছে খবর প্রচার, এইবার উপসংহার টানা দরকার। সত্য উদ্ঘাটিত হোক, জবাবদিহি নিশ্চিত হোক, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হোক।

 

অ্যাডভোকেট আমিরুল হক

‎সম্পাদক, দৈনিক হক বার্তা (অন্তরালের খবর), সুনামগঞ্জ।

‎

ট্যাগসঃ

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

সম্পাদকীয়-কলাম

এক কোটি টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ: প্রশ্নের মুখে এমপি নুরুলের ভূমিকা! ‎অনেক হয়েছে খবর প্রচার, এইবার উপসংহার টানা দরকার !

আপডেট সময়ঃ ০৮:৫০:৩৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

 

সুনামগঞ্জ। ২৯ অক্টোবর ২০২৬

‎বিস্তারিত ;

‎

‎সুনামগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম নুরুলের বিরুদ্ধে এক কোটি টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ তুলেছেন এক ঠিকাদার। অন্যদিকে, সংসদ সদস্যের বক্তব্য—রাস্তার কাজে অনিয়ম দেখে তিনি কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন। ঠিকাদারের লিখিত অভিযোগ ও প্রকাশিত সংবাদকে কেন্দ্র করে জনমনে নানা প্রশ্নের উদয় হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণ করবে নিরপেক্ষ তদন্ত; তবে এই ঘটনাপ্রবাহের অসংগতিগুলোর জবাবও জরুরি।

‎

‎জনমনে উত্থাপিত ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন;

‎১. রাস্তার কাজ বন্ধ করার আইনগত ক্ষমতা কার?

‎একজন সংসদ সদস্য কি নিজেই রাস্তার কাজ বন্ধ করে দিতে পারেন, নাকি সংশ্লিষ্ট প্রকৌশল বিভাগ ও প্রশাসনের মাধ্যমে তদন্ত ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়াই তাঁর করণীয়?

‎

 

‎২. কাজ বন্ধের পর ঠিকাদারের সঙ্গে যোগাযোগের উদ্দেশ্য কী ছিল?

‎সংসদ সদস্যের বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি অনিয়ম দেখে কাজ বন্ধ করেছেন। তাহলে তাঁর কথিত সহযোগীর মাধ্যমে ঠিকাদারকে যোগাযোগের জন্য ফোন করার অভিযোগ কেন উঠল? বিষয়টির স্বচ্ছ ব্যাখ্যা কোথায়?

‎

‎৩. এক কোটি টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত কোথায়?

‎ঠিকাদার লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলে যে দাবি সামনে এসেছে, সেটির তদন্তের অগ্রগতি কী? অভিযোগটি সত্য নাকি মিথ্যা—তা প্রমাণের ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হচ্ছে কি?

‎

‎

‎৪. সংসদ সদস্য নিজেকে নির্দোষ মনে করলে আইনি প্রতিকারের উদ্যোগ কোথায়?

‎এমন গুরুতর অভিযোগ তাঁর ব্যক্তিগত সম্মান ও জনপ্রতিনিধি হিসেবে ভাবমূর্তির ওপর আঘাত হানতে পারে। তিনি যদি অভিযোগটিকে মিথ্যা বলে দাবি করেন, তাহলে আইনানুগ প্রতিকার ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্য প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ কতটা দৃশ্যমান?

‎

‎৫. ঠিকাদারকে ‘ফ্যাসিস্টের দোসর’ বললেই কি তাঁর অভিযোগ বাতিল হয়ে যায়?

‎ঠিকাদারের রাজনৈতিক পরিচয় কিংবা কাজের অনিয়মের অভিযোগ আলাদাভাবে তদন্তযোগ্য। কিন্তু রাজনৈতিক তকমা দিয়ে তাঁর অভিযোগ খারিজ করা যায় না। প্রতিটি অভিযোগের জবাব তথ্য-দিয়েই দিতে হবে।

‎

‎৬. অন্যান্য অনিয়মের অভিযোগেও জবাবদিহি কোথায়?

‎সুনামগঞ্জে বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ে সময়ে সময়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়। সেসব বিষয়ে কার্যকর তদন্ত ‎ ও দৃশ্যমান জবাবদিহি কতটা নিশ্চিত হয়েছ ?একটি রাস্তার কাজ ঘিরেই বা কেন এতো বিতর্ক?

‎

‎

‎ অভিযোগ নয়, আমরা চাই সত্যের নিষ্পত্তি ;

‎একজন মানুষ পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়েন কি না, সেটি তাঁর ব্যক্তিগত ধর্মাচরণের বিষয়। কিন্তু ধর্মীয় পরিচয় কিংবা রাজনৈতিক পদমর্যাদা—কোনোটিই কাউকে অভিযোগের ঊর্ধ্বে রাখে না। একইভাবে, অভিযোগ উঠলেই কাউকে অপরাধী ঘোষণা করাও ন্যায়সংগত নয়।

‎

‎এখানে প্রশ্ন হলো, সংসদ সদস্যের বক্তব্য যদি সত্য হয়, তাহলে অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে নিরপেক্ষ তদন্ত ও আইনানুগ প্রক্রিয়াকে সামনে আনা হচ্ছে কি না। পাল্টাপাল্টি বক্তব্য, ব্যক্তিগত আক্রমণ কিংবা কথিত সহযোগীদের বক্তব্যের মধ্যেই বিষয়টি সীমাবদ্ধ থাকলে জনমনে সংশয় আরও বাড়বে।

 

‎অপরদিকে, ঠিকাদার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে লিখিত আবেদন করেছেন বলে যে দাবি সামনে এসেছে, সেটিও যথাযথভাবে যাচাই করা জরুরি। তিনি কাজের অনিয়মে অভিযুক্ত হয়ে থাকলেও তাঁর অভিযোগ জানানোর অধিকার অক্ষুণ্ণ থাকে। অভিযোগের সত্যতা নির্ধারিত হবে প্রমাণ ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমেই।

‎

‎

‎•অনেক হয়েছে খবর প্রচার, এইবার উপসংহার টানা দরকার !

‎সুনামগঞ্জে অনিয়ম, দুর্নীতি, অর্থ লোপাট কিংবা ক্ষমতার অপব্যবহার নিয়ে বছরের পর বছর অভিযোগ ওঠে। সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়, পাল্টাপাল্টি বক্তব্য চলে, জনমনে আলোচনা তৈরি হয়। এরপর একসময় সবকিছু যেন নীরবে থেমে যায়। জনগণ আর জানতে পারে না—অভিযোগের সত্যতা কী, দায়ী কে, আর তদন্তের ফলই বা কী হলো!

‎

‎এই অস্বচ্ছতার সুযোগেই কি অনিয়ম ক্রমশ বাড়ছে না? একজন আরেকজনের বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকা লোপাটের অভিযোগ তুলবেন, অথচ সত্য উদ্ঘাটনের আগেই বিষয়টি লোকচক্ষুর আড়ালে চলে যাবে—এ সংস্কৃতি আর কত দিন চলবে?

‎

‎২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশে আমরা পুরোনো সেই সংস্কৃতি দেখতে চাই না, যেখানে অভিযোগ ওঠে, পাল্টাপাল্টি বক্তব্য চলে, তারপর সবকিছু অন্ধকারে হারিয়ে যায়। আমরা চাই না, অভিযোগের নিষ্পত্তি না করেই বিষয়টি ধামাচাপা পড়ে থাকুক।

‎

‎সুনামগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য- নুরুল ইসলাম নুরুলের বিরুদ্ধে ওঠা এক কোটি টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগের ক্ষেত্রেও আমাদের অবস্থান স্পষ্ট—তিনি দোষী, নাকি অভিযোগটি অসত্য, তা নির্ধারণ করতে হবে নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রমাণের ভিত্তিতে। কিন্তু সেই নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বিষয়টি যেন পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের ভিড়ে হারিয়ে না যায়।

‎

‎”দৈনিক হক বার্তার” অঙ্গীকার, সংবাদ প্রকাশ করেই দায়িত্ব শেষ নয়; অভিযোগের পরিণতি কী হলো, সেটিও জনগণকে জানাতে হবে। কারণ, জবাবদিহি ছাড়া সংবাদ ক্ষণস্থায়ী আলোচনা হয়ে থাকে, আর জবাবদিহি প্রতিষ্ঠিত হলে সংবাদ হয়ে ওঠে পরিবর্তনের হাতিয়ার।

‎

‎আমাদের প্রশ্ন কাউকে হেয় করা নয়; আমাদের দাবি—সত্যের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি।

‎”দৈনিক হক বার্তা” (অন্তরালের খবর), সুনামগঞ্জের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান—অভিযোগটির নিরপেক্ষ তদন্ত করুন, প্রমাণের ভিত্তিতে আইনানুগ ব্যবস্থা নিন এবং তদন্তের ফল জনগণের সামনে প্রকাশ করুন।

‎

‎অনেক হয়েছে খবর প্রচার, এইবার উপসংহার টানা দরকার। সত্য উদ্ঘাটিত হোক, জবাবদিহি নিশ্চিত হোক, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হোক।

 

অ্যাডভোকেট আমিরুল হক

‎সম্পাদক, দৈনিক হক বার্তা (অন্তরালের খবর), সুনামগঞ্জ।

‎