০৫:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
সুনামগঞ্জে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ নেতাকে থানায় নেওয়ার পর অসুস্থতা ও হাসপাতালে ভর্তি:

পুলিশের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ,ওসির বক্তব্য ও লাইভে হুমকির ঘটনায় তোলপাড়

হকবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময়ঃ ১১:৩২:০৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
  • / ৩৩ বার পড়া হয়েছে।

 

হকবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট;

সুনামগঞ্জ ।। ৩১ অক্টোবর ২০২৬

 

 

সুনামগঞ্জে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের এক নেতাকে থানায় নিয়ে যাওয়ার পর অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনায় পুলিশের বিরুদ্ধে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ তুলেছে তার পরিবার। তবে এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও গুজব বলে দাবি করেছে পুলিশ। অন্যদিকে, এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফেসবুকে লাইভে এসে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) হুমকি ও গালিগালাজ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

 

ঘটনার সূত্রপাত যেভাবে;

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাত ১১টার দিকে শহরের নতুনপাড়া এলাকা থেকে দেওয়ান শাহনেওয়াজ চৌধুরী প্রিন্সকে থানায় নিয়ে আসে পুলিশ। তিনি নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের একজন নেতা। একটি মামলার ভিত্তিতে তাকে আটক করা হয়েছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে। থানায় নেওয়ার প্রায় এক ঘণ্টা পর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে পুলিশ তাকে দ্রুত সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে তিনি সিলেট নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

 

পরিবারের অভিযোগ ও পুলিশের বক্তব্য;

প্রিন্সের বাবা দেওয়ান শাহরুখ রাজা চৌধুরী দাবি করেন, তার ছেলের বিরুদ্ধে সরকারবিরোধী তিনটি মামলা থাকলেও তিনি উচ্চ আদালত থেকে জামিনপ্রাপ্ত ছিলেন। এসআই জাকারিয়া তাকে আশ্বস্ত করেছিলেন যে, কিছু কথা বলার জন্য ওসি মহোদয় তাকে থানায় ডেকেছেন এবং কথা শেষেই তাকে সসম্মানে বাসায় পৌঁছে দেওয়া হবে। পুলিশের এই আশ্বাসে তিনি ছেলেকে তাদের জিম্মায় দেন। কিন্তু থানায় নেওয়ার পর তারা হাসপাতালে গিয়ে ছেলেকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় দেখতে পান। তিনি পুরো ঘটনার একটি নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন।

 

অন্যদিকে, সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রতন শেখ পুলিশ হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগ দৃঢ়ভাবে নাকচ করে দিয়েছেন। তিনি জানান, “পুলিশ হেফাজতে তাকে মারধরের বিন্দুমাত্র কোনো ঘটনা ঘটেনি। তিনি মূলত খিচুনীজনিত রোগে আক্রান্ত এবং শারীরিকভাবে অত্যন্ত দুর্বল থাকার কারণে আকস্মিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তিনজনসহ মোট চারজন চিকিৎসক তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেছেন। চিকিৎসকদের পরীক্ষায় তার শরীরে আঘাত বা নির্যাতনের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি।”

 

ওসি আরও জানান, ঘটনার পুরো দৃশ্য থানার সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ করা হয়েছে এবং সেই ফুটেজ সংরক্ষিত রয়েছে। হাজতখানার গেটের কাছে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় শারীরিক দুর্বলতার কারণে তিনি নিজেই পড়ে যান, যা সিসিটিভি ফুটেজে স্পষ্ট রয়েছে।

 

ফেসবুক লাইভে হুমকি ও আইনি পদক্ষেপ;

প্রিন্সকে হাসপাতালে নেওয়ার পর তার পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশের বিরুদ্ধে প্রশ্ন তোলা হয় এবং হাসপাতাল প্রাঙ্গণে পুলিশের সাথে অসদাচরণ করা হয়। এর কিছু সময় পরই ফাহিম রাজা নামের এক যুবক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে লাইভে এসে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি রতন সেখকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও প্রকাশ্য হুমকি দেন।

 

এ বিষয়ে ওসি রতন শেখ বলেন, তার দায়িত্বকালে পুলিশ হেফাজতে কাউকে নির্যাতন বা মারধরের কোনো ঘটনা ঘটেনি। এই স্পর্শকাতর বিষয়টিকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অতিরঞ্জিত তথ্য ছড়ানো হচ্ছে এবং পুলিশ সদস্যদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এসব অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের ডিজিটাল প্রমাণ সংরক্ষণ করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ট্যাগসঃ

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

সুনামগঞ্জে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ নেতাকে থানায় নেওয়ার পর অসুস্থতা ও হাসপাতালে ভর্তি:

পুলিশের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ,ওসির বক্তব্য ও লাইভে হুমকির ঘটনায় তোলপাড়

আপডেট সময়ঃ ১১:৩২:০৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

 

হকবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট;

সুনামগঞ্জ ।। ৩১ অক্টোবর ২০২৬

 

 

সুনামগঞ্জে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের এক নেতাকে থানায় নিয়ে যাওয়ার পর অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনায় পুলিশের বিরুদ্ধে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ তুলেছে তার পরিবার। তবে এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও গুজব বলে দাবি করেছে পুলিশ। অন্যদিকে, এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফেসবুকে লাইভে এসে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) হুমকি ও গালিগালাজ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

 

ঘটনার সূত্রপাত যেভাবে;

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাত ১১টার দিকে শহরের নতুনপাড়া এলাকা থেকে দেওয়ান শাহনেওয়াজ চৌধুরী প্রিন্সকে থানায় নিয়ে আসে পুলিশ। তিনি নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের একজন নেতা। একটি মামলার ভিত্তিতে তাকে আটক করা হয়েছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে। থানায় নেওয়ার প্রায় এক ঘণ্টা পর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে পুলিশ তাকে দ্রুত সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে তিনি সিলেট নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

 

পরিবারের অভিযোগ ও পুলিশের বক্তব্য;

প্রিন্সের বাবা দেওয়ান শাহরুখ রাজা চৌধুরী দাবি করেন, তার ছেলের বিরুদ্ধে সরকারবিরোধী তিনটি মামলা থাকলেও তিনি উচ্চ আদালত থেকে জামিনপ্রাপ্ত ছিলেন। এসআই জাকারিয়া তাকে আশ্বস্ত করেছিলেন যে, কিছু কথা বলার জন্য ওসি মহোদয় তাকে থানায় ডেকেছেন এবং কথা শেষেই তাকে সসম্মানে বাসায় পৌঁছে দেওয়া হবে। পুলিশের এই আশ্বাসে তিনি ছেলেকে তাদের জিম্মায় দেন। কিন্তু থানায় নেওয়ার পর তারা হাসপাতালে গিয়ে ছেলেকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় দেখতে পান। তিনি পুরো ঘটনার একটি নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন।

 

অন্যদিকে, সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রতন শেখ পুলিশ হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগ দৃঢ়ভাবে নাকচ করে দিয়েছেন। তিনি জানান, “পুলিশ হেফাজতে তাকে মারধরের বিন্দুমাত্র কোনো ঘটনা ঘটেনি। তিনি মূলত খিচুনীজনিত রোগে আক্রান্ত এবং শারীরিকভাবে অত্যন্ত দুর্বল থাকার কারণে আকস্মিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তিনজনসহ মোট চারজন চিকিৎসক তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেছেন। চিকিৎসকদের পরীক্ষায় তার শরীরে আঘাত বা নির্যাতনের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি।”

 

ওসি আরও জানান, ঘটনার পুরো দৃশ্য থানার সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ করা হয়েছে এবং সেই ফুটেজ সংরক্ষিত রয়েছে। হাজতখানার গেটের কাছে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় শারীরিক দুর্বলতার কারণে তিনি নিজেই পড়ে যান, যা সিসিটিভি ফুটেজে স্পষ্ট রয়েছে।

 

ফেসবুক লাইভে হুমকি ও আইনি পদক্ষেপ;

প্রিন্সকে হাসপাতালে নেওয়ার পর তার পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশের বিরুদ্ধে প্রশ্ন তোলা হয় এবং হাসপাতাল প্রাঙ্গণে পুলিশের সাথে অসদাচরণ করা হয়। এর কিছু সময় পরই ফাহিম রাজা নামের এক যুবক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে লাইভে এসে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি রতন সেখকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও প্রকাশ্য হুমকি দেন।

 

এ বিষয়ে ওসি রতন শেখ বলেন, তার দায়িত্বকালে পুলিশ হেফাজতে কাউকে নির্যাতন বা মারধরের কোনো ঘটনা ঘটেনি। এই স্পর্শকাতর বিষয়টিকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অতিরঞ্জিত তথ্য ছড়ানো হচ্ছে এবং পুলিশ সদস্যদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এসব অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের ডিজিটাল প্রমাণ সংরক্ষণ করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।