০৫:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
হামলা

সুনামগঞ্জে মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার সাক্ষীর বাড়ি ও দোকানে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট

স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময়ঃ ০১:০৯:৩৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
  • / ১২৫ বার পড়া হয়েছে।

 

হকবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট

সুনামগঞ্জ ।। ৩১ অক্টোবর ২০২৬:

 

 

সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলায় একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার এক সাক্ষীর বাড়ি ও দোকানে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় নারীসহ অন্তত পাঁচজন আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাতের দিকে উপজেলার প্রত্যন্ত দৌলতপুর গ্রামে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

 

শাল্লা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সোহেল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং হামলা ও ভাঙচুরের আলামত সংগ্রহ করেছে।

 

ভুক্তভোগী পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার দিনে পুলিশ একটি চুরির ঘটনার তদন্তে দৌলতপুর গ্রামে গেলে স্থানীয় কয়েকজন হামলাকারী পুলিশের সঙ্গে তর্কে লিপ্ত হয় এবং পুলিশ কেন গ্রামে এসেছে তার কৈফিয়ত চায়। এরপর পুলিশ চলে যাওয়ার পরদিন মধ্যরাতে যুদ্ধাপরাধ মামলার আসামিদের অনুসারী ও স্বজনদের একটি দল দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে দুলাল মিয়ার বাড়ি ও দোকানে চড়াও হয়।

 

ভুক্তভোগী দুলাল মিয়ার পরিবার জানায়, মুক্তিযুদ্ধের সময় দুলাল মিয়ার বাবা মামুদ আলীসহ তাদের পরিবারের সাতজন সদস্য শহীদ হয়েছেন। শহীদ পরিবারের সন্তান দুলাল মিয়া ২০১৬ সালে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাক্ষ্য দেন। ওই মামলায় তদন্ত সংস্থার কাছে মোট ৩২ জন সাক্ষ্য দিয়েছিলেন এবং পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল দেড়শ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন দাখিল করে।

 

যুদ্ধাপরাধ মামলার নথিপত্র অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ২৯ ডিসেম্বর দৌলতপুর গ্রামের তোতা টেইলার্স ও জলিল মিয়াসহ পাঁচজনকে মানবতাবিরোধী মামলায় গ্রেপ্তার করে পুলিশ। দীর্ঘকাল কারাভোগের পর তারা জামিনে মুক্তি পান। তাদের বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ৩৪ জনকে হত্যা, ৫ নারীকে ধর্ষণ, ৩১ জনকে অপহরণ, ১৪ জনকে নির্যাতন এবং ৩০টি বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের অভিযোগ রয়েছে। মামলার অন্য সাক্ষীরা গত ৫ আগস্টের পর নিরাপত্তাহীনতায় গ্রাম ছেড়ে চলে গেলেও দুলাল মিয়ার পরিবার গ্রামে থেকে যায়।

 

ভুক্তভোগী দুলাল মিয়ার মেয়ে উজ্জ্বলা আক্তার অভিযোগ করেন, গত ৫ আগস্টের পর থেকে তাদের পরিবারকে উচ্ছেদের হুমকি ও নানা ধরনের উৎপাত বাড়ানো হয়েছিল। ২৩ অক্টোবর তাদের দোকানে চুরির ঘটনা ঘটে এবং পুলিশ ২৯ তারিখে তদন্তে আসে। এর আক্রোশেই জালাল মিয়া, তোফাজ্জল মিয়া, শাহিন মিয়া, হেকিম মড়ল, সুলতান, রাজ্জাক, তারেক, শামিম ও নূর ইসলামসহ ১৫-২০ জনের একটি দল মধ্যরাতে এই হামলা চালায়।

 

হামলাকারীরা দোকান ও বসতঘর ভাঙচুর করে নগদ চার লাখ টাকা, দুই ভরি স্বর্ণালঙ্কার, চারটি ফ্রিজ ও ছয়টি গবাদিপশুসহ মূল্যবান মালামাল লুট করে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এছাড়া পরিবারের নারী সদস্যদের শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয় এবং বাড়িছাড়া করার হুমকি দেওয়া হয়।

 

শাল্লা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মোকতাদির আহমদ জানান, দৌলতপুর গ্রাম থেকে আহত অবস্থায় তিন নারী ও এক শিশু হাসপাতালে এসে চিকিৎসা নিয়েছেন।

 

অভিযুক্তদের বক্তব্য জানতে যুদ্ধাপরাধ মামলার আসামি জালাল মিয়ার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।

 

শাল্লা থানার ওসি মোহাম্মদ সোহেল জানান, পুলিশ ইতোমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং ভুক্তভোগী পরিবারকে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ট্যাগসঃ

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

হামলা

সুনামগঞ্জে মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার সাক্ষীর বাড়ি ও দোকানে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট

আপডেট সময়ঃ ০১:০৯:৩৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

 

হকবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট

সুনামগঞ্জ ।। ৩১ অক্টোবর ২০২৬:

 

 

সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলায় একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার এক সাক্ষীর বাড়ি ও দোকানে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় নারীসহ অন্তত পাঁচজন আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাতের দিকে উপজেলার প্রত্যন্ত দৌলতপুর গ্রামে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

 

শাল্লা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সোহেল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং হামলা ও ভাঙচুরের আলামত সংগ্রহ করেছে।

 

ভুক্তভোগী পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার দিনে পুলিশ একটি চুরির ঘটনার তদন্তে দৌলতপুর গ্রামে গেলে স্থানীয় কয়েকজন হামলাকারী পুলিশের সঙ্গে তর্কে লিপ্ত হয় এবং পুলিশ কেন গ্রামে এসেছে তার কৈফিয়ত চায়। এরপর পুলিশ চলে যাওয়ার পরদিন মধ্যরাতে যুদ্ধাপরাধ মামলার আসামিদের অনুসারী ও স্বজনদের একটি দল দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে দুলাল মিয়ার বাড়ি ও দোকানে চড়াও হয়।

 

ভুক্তভোগী দুলাল মিয়ার পরিবার জানায়, মুক্তিযুদ্ধের সময় দুলাল মিয়ার বাবা মামুদ আলীসহ তাদের পরিবারের সাতজন সদস্য শহীদ হয়েছেন। শহীদ পরিবারের সন্তান দুলাল মিয়া ২০১৬ সালে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাক্ষ্য দেন। ওই মামলায় তদন্ত সংস্থার কাছে মোট ৩২ জন সাক্ষ্য দিয়েছিলেন এবং পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল দেড়শ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন দাখিল করে।

 

যুদ্ধাপরাধ মামলার নথিপত্র অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ২৯ ডিসেম্বর দৌলতপুর গ্রামের তোতা টেইলার্স ও জলিল মিয়াসহ পাঁচজনকে মানবতাবিরোধী মামলায় গ্রেপ্তার করে পুলিশ। দীর্ঘকাল কারাভোগের পর তারা জামিনে মুক্তি পান। তাদের বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ৩৪ জনকে হত্যা, ৫ নারীকে ধর্ষণ, ৩১ জনকে অপহরণ, ১৪ জনকে নির্যাতন এবং ৩০টি বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের অভিযোগ রয়েছে। মামলার অন্য সাক্ষীরা গত ৫ আগস্টের পর নিরাপত্তাহীনতায় গ্রাম ছেড়ে চলে গেলেও দুলাল মিয়ার পরিবার গ্রামে থেকে যায়।

 

ভুক্তভোগী দুলাল মিয়ার মেয়ে উজ্জ্বলা আক্তার অভিযোগ করেন, গত ৫ আগস্টের পর থেকে তাদের পরিবারকে উচ্ছেদের হুমকি ও নানা ধরনের উৎপাত বাড়ানো হয়েছিল। ২৩ অক্টোবর তাদের দোকানে চুরির ঘটনা ঘটে এবং পুলিশ ২৯ তারিখে তদন্তে আসে। এর আক্রোশেই জালাল মিয়া, তোফাজ্জল মিয়া, শাহিন মিয়া, হেকিম মড়ল, সুলতান, রাজ্জাক, তারেক, শামিম ও নূর ইসলামসহ ১৫-২০ জনের একটি দল মধ্যরাতে এই হামলা চালায়।

 

হামলাকারীরা দোকান ও বসতঘর ভাঙচুর করে নগদ চার লাখ টাকা, দুই ভরি স্বর্ণালঙ্কার, চারটি ফ্রিজ ও ছয়টি গবাদিপশুসহ মূল্যবান মালামাল লুট করে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এছাড়া পরিবারের নারী সদস্যদের শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয় এবং বাড়িছাড়া করার হুমকি দেওয়া হয়।

 

শাল্লা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মোকতাদির আহমদ জানান, দৌলতপুর গ্রাম থেকে আহত অবস্থায় তিন নারী ও এক শিশু হাসপাতালে এসে চিকিৎসা নিয়েছেন।

 

অভিযুক্তদের বক্তব্য জানতে যুদ্ধাপরাধ মামলার আসামি জালাল মিয়ার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।

 

শাল্লা থানার ওসি মোহাম্মদ সোহেল জানান, পুলিশ ইতোমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং ভুক্তভোগী পরিবারকে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।