১২:৫১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬
সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

নিরাপদ নয় কেউ: চিকিৎসা নিতে এসে হামলা-জিম্মির শিকার রোগী ও সাংবাদিকেরা, প্রায়ই মিলে না জরুরী চিকিৎসাসেবা

হকবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময়ঃ ০৩:০৩:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬
  • / ২৯ বার পড়া হয়েছে।

 

হকবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট;

সুনামগঞ্জ ।। ০৩ নভেম্বর ২০২৬

 

সিলেট অঞ্চলের চিকিৎসা সেবার প্রধান ভরসাস্থল এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল যেন অনিরাপত্তা ও সংঘাতে জর্জরিত। গত এক দশকে এই প্রতিষ্ঠানে বহুবার হামলা, মারধর, ভাঙচুর ও জিম্মি করার ঘটনা ঘটেছে। চিকিৎসা নিতে আসা অসহায় রোগীর স্বজন থেকে শুরু করে পেশাগত দায়িত্ব পালনরত সাংবাদিক, এমনকি হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তারাও এই নৈরাজ্যের হাত থেকে রেহাই পাননি। বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণে বারবার একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটছে বলে অভিযোগ করছেন সচেতন নাগরিক ও ভুক্তভোগীরা।

 

 

দীর্ঘমেহাদী অস্থিরতা ও বিচারহীনতার সংস্কৃতি;

গত ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে ওসমানী হাসপাতালে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রোগীর স্বজনদের ওপর হামলা ও পাল্টা ভাঙচুরের অসংখ্য নজির রয়েছে। কতিপয় ইন্টার্ন চিকিৎসকের মারমুখী আচরণ ও বিচার না হওয়ার সংস্কৃতিতে পরিস্থিতি দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে। সংঘাতের পর দায়সাড়া গোছের তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও দৃশ্যমান কোনো বিচার বা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির নজির না থাকায় পরিস্থিতি বারবার ফিরে আসছে একই বিন্দুতে।

 

সর্বশেষ ২৮ অক্টোবরের ঘটনা ও সাংবাদিকদের প্রতিবাদ;

এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৮ অক্টোবর হাসপাতালের ভেতরে রোগীর স্বজনদের ওপর ইন্টার্ন চিকিৎসকদের হামলার ঘটনা ঘটে। এই ঘটনার ছবি ও ভিডিওচিত্র ধারণ করতে গিয়ে দুই সংবাদকর্মী বর্বরোচিত হামলার শিকার হন। আহত হন দৈনিক শ্যামল সিলেটের ফটোসাংবাদিক রেজা রুবেল এবং সিলেটভিউ২৪ডটকমের স্টাফ রিপোর্টার নিবেন্দু তালুকদার।

 

এই ঘটনার পর চিকিৎসাসেবা স্বাভাবিক রাখার পরিবর্তে উল্টো হাসপাতালটিতে ‘শাটডাউন’ বা চিকিৎসাসেবা বন্ধ রেখে কর্মসূচি পালন করেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে গত ৩১ অক্টোবর সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে প্রতিবাদ মানববন্ধন করেন বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতারা এবং জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

 

গত এক দশকে ওসমানী হাসপাতালে ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য কিছু ঘটনা:

•১৭ জানুয়ারি (চলতি বছর): চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ তুলে রোগীর স্বজনদের সঙ্গে তর্কের জেরে ইন্টার্ন চিকিৎসক ও স্টাফরা তিন স্বজনকে বেধড়ক পিটিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেন। পরদিন এর প্রতিবাদে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা কর্মবিরতি পালন করেন। এর আগে ১৬ জানুয়ারি সার্জারি ওয়ার্ডে নারী ইন্টার্ন চিকিৎসককে হেনস্তার অভিযোগে সংঘর্ষে অন্তত পাঁচজন আহত হন।

•৮ জুলাই: হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে রোগীর স্বজনদের সঙ্গে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কয়েক দফা সংঘর্ষ হয়। পরে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির ঘোষণা দেয় ইন্টার্ন ডক্টরস ফোরাম।

•২৭ এপ্রিল (গত বছর): ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে অ্যাপেন্ডিক্সের ব্যথায় কাতর রোগীর এক বন্ধুকে (স্বজনকে) তেড়ে গিয়ে লাথি মারেন সার্জারি বিভাগের এক চিকিৎসক (তন্ময় দেবনাথ)। এই দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে। অভিযুক্তকে সাময়িক অব্যাহতি ও তদন্ত কমিটি গঠন করেই দায় সারে কর্তৃপক্ষ।

•২১ মার্চ (২০২৪): হাসপাতালের এক প্রবীণ রোগীকে চিকিৎসকরা মারধর করেছেন বলে নারী চিকিৎসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়।

•২১ আগস্ট (২০২৩): ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসায় অবহেলায় রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ তোলায় রোগীর স্বজনদের ওপর হামলা চালান ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। অন্যদিকে স্বজনদের ভাঙচুরের অভিযোগে চারজনকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে সোপর্দ করা হয়।

 

৩ আগস্ট ( ২০২২): শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা ও নারী চিকিৎসককে হয়রানির অভিযোগ তুলে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝোলান। তৎকালীন পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহবুবুর রহমান ভূঁইয়াকে কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে রাখা হয় এবং চিকিৎসাসেবা বন্ধ রেখে অচলাবস্থা তৈরি করা হয়।

 

•১২ আগস্ট (২০২২): চার তলার ১ নম্বর ওয়ার্ডে রোগীর স্বজন রুবেনা বেগমকে (২৭) মারধরের অভিযোগ ওঠে।

•নভেম্বর (২০২১): চিকিৎসা শুরু করতে বিলম্ব হওয়ায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে ফোনে অভিযোগ করায় এক জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকের ওপর চড়াও হন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। পরে অন্য সাংবাদিকরা গিয়ে তাকে অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে উদ্ধার করেন।

•১২ মার্চ ( ২০১৯): বিশৃঙ্খলার অভিযোগে রোগীর দুই স্বজনকে (ইসমাইল আলী ও জ্যোতিন্দ্র বিশ্বাস) মারধরের নির্দেশ দেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। শুধু তাই নয়, আনসারদের দিয়ে জনসম্মوحة তাদের কান ধরিয়ে ওঠবস করানো হয় এবং সাদা কাগজে স্বাক্ষর রেখে ছেড়ে দেওয়া হয়।

•৪ সেপ্টেম্বর (২০১৮): রোগী দেখতে প্রবেশের সময় নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে বচসাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে রোগীর দুই স্বজন আহত হন।

 

•২০০৮ সাল: ১/১১-এর সময়ও কতিপয় ইন্টার্ন চিকিৎসকের হাতে ফটোসাংবাদিকরা আক্রান্ত হয়েছিলেন। সে সময় ঐক্যবদ্ধ প্রতিবাদের মুখে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও চিকিৎসকরা দুঃখ প্রকাশ করে বিষয়টির সুরাহা করলেও দীর্ঘমেয়াদে পরিস্থিতির কোনো স্থায়ী উন্নতি হয়নি।

 

 

ভুক্তভোগী ও সচেতন মহলের উদ্বেগ;

এসব ঘটনায় প্রায় প্রতিবারই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে, সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে কিংবা পুলিশ মামলা নিয়ে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছে। কিন্তু দীর্ঘসূত্রিতা ও কার্যকর পদক্ষেপের অভাবে বিচার নিশ্চিত না হওয়ায় অপরাধপ্রবণতা কমছে না।

 

বিশ্লেষকদের মতে, ওসমানী হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা যেমন নিশ্চিত করা জরুরি, তেমনি চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ বজায় রাখাও সমানভাবে আবশ্যক। কিন্তু তুচ্ছ ঘটনায় চিকিৎসাসেবা বন্ধ করে সাধারণ রোগীদের জিম্মি করা এবং বারবার সংঘর্ষের এই সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও হাসপাতাল প্রশাসনের কঠোর ও নিরপেক্ষ হস্তক্ষেপ অপরিহার্য।

ট্যাগসঃ

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

নিরাপদ নয় কেউ: চিকিৎসা নিতে এসে হামলা-জিম্মির শিকার রোগী ও সাংবাদিকেরা, প্রায়ই মিলে না জরুরী চিকিৎসাসেবা

আপডেট সময়ঃ ০৩:০৩:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬

 

হকবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট;

সুনামগঞ্জ ।। ০৩ নভেম্বর ২০২৬

 

সিলেট অঞ্চলের চিকিৎসা সেবার প্রধান ভরসাস্থল এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল যেন অনিরাপত্তা ও সংঘাতে জর্জরিত। গত এক দশকে এই প্রতিষ্ঠানে বহুবার হামলা, মারধর, ভাঙচুর ও জিম্মি করার ঘটনা ঘটেছে। চিকিৎসা নিতে আসা অসহায় রোগীর স্বজন থেকে শুরু করে পেশাগত দায়িত্ব পালনরত সাংবাদিক, এমনকি হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তারাও এই নৈরাজ্যের হাত থেকে রেহাই পাননি। বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণে বারবার একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটছে বলে অভিযোগ করছেন সচেতন নাগরিক ও ভুক্তভোগীরা।

 

 

দীর্ঘমেহাদী অস্থিরতা ও বিচারহীনতার সংস্কৃতি;

গত ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে ওসমানী হাসপাতালে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রোগীর স্বজনদের ওপর হামলা ও পাল্টা ভাঙচুরের অসংখ্য নজির রয়েছে। কতিপয় ইন্টার্ন চিকিৎসকের মারমুখী আচরণ ও বিচার না হওয়ার সংস্কৃতিতে পরিস্থিতি দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে। সংঘাতের পর দায়সাড়া গোছের তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও দৃশ্যমান কোনো বিচার বা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির নজির না থাকায় পরিস্থিতি বারবার ফিরে আসছে একই বিন্দুতে।

 

সর্বশেষ ২৮ অক্টোবরের ঘটনা ও সাংবাদিকদের প্রতিবাদ;

এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৮ অক্টোবর হাসপাতালের ভেতরে রোগীর স্বজনদের ওপর ইন্টার্ন চিকিৎসকদের হামলার ঘটনা ঘটে। এই ঘটনার ছবি ও ভিডিওচিত্র ধারণ করতে গিয়ে দুই সংবাদকর্মী বর্বরোচিত হামলার শিকার হন। আহত হন দৈনিক শ্যামল সিলেটের ফটোসাংবাদিক রেজা রুবেল এবং সিলেটভিউ২৪ডটকমের স্টাফ রিপোর্টার নিবেন্দু তালুকদার।

 

এই ঘটনার পর চিকিৎসাসেবা স্বাভাবিক রাখার পরিবর্তে উল্টো হাসপাতালটিতে ‘শাটডাউন’ বা চিকিৎসাসেবা বন্ধ রেখে কর্মসূচি পালন করেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে গত ৩১ অক্টোবর সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে প্রতিবাদ মানববন্ধন করেন বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতারা এবং জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

 

গত এক দশকে ওসমানী হাসপাতালে ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য কিছু ঘটনা:

•১৭ জানুয়ারি (চলতি বছর): চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ তুলে রোগীর স্বজনদের সঙ্গে তর্কের জেরে ইন্টার্ন চিকিৎসক ও স্টাফরা তিন স্বজনকে বেধড়ক পিটিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেন। পরদিন এর প্রতিবাদে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা কর্মবিরতি পালন করেন। এর আগে ১৬ জানুয়ারি সার্জারি ওয়ার্ডে নারী ইন্টার্ন চিকিৎসককে হেনস্তার অভিযোগে সংঘর্ষে অন্তত পাঁচজন আহত হন।

•৮ জুলাই: হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে রোগীর স্বজনদের সঙ্গে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কয়েক দফা সংঘর্ষ হয়। পরে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির ঘোষণা দেয় ইন্টার্ন ডক্টরস ফোরাম।

•২৭ এপ্রিল (গত বছর): ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে অ্যাপেন্ডিক্সের ব্যথায় কাতর রোগীর এক বন্ধুকে (স্বজনকে) তেড়ে গিয়ে লাথি মারেন সার্জারি বিভাগের এক চিকিৎসক (তন্ময় দেবনাথ)। এই দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে। অভিযুক্তকে সাময়িক অব্যাহতি ও তদন্ত কমিটি গঠন করেই দায় সারে কর্তৃপক্ষ।

•২১ মার্চ (২০২৪): হাসপাতালের এক প্রবীণ রোগীকে চিকিৎসকরা মারধর করেছেন বলে নারী চিকিৎসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়।

•২১ আগস্ট (২০২৩): ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসায় অবহেলায় রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ তোলায় রোগীর স্বজনদের ওপর হামলা চালান ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। অন্যদিকে স্বজনদের ভাঙচুরের অভিযোগে চারজনকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে সোপর্দ করা হয়।

 

৩ আগস্ট ( ২০২২): শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা ও নারী চিকিৎসককে হয়রানির অভিযোগ তুলে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝোলান। তৎকালীন পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহবুবুর রহমান ভূঁইয়াকে কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে রাখা হয় এবং চিকিৎসাসেবা বন্ধ রেখে অচলাবস্থা তৈরি করা হয়।

 

•১২ আগস্ট (২০২২): চার তলার ১ নম্বর ওয়ার্ডে রোগীর স্বজন রুবেনা বেগমকে (২৭) মারধরের অভিযোগ ওঠে।

•নভেম্বর (২০২১): চিকিৎসা শুরু করতে বিলম্ব হওয়ায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে ফোনে অভিযোগ করায় এক জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকের ওপর চড়াও হন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। পরে অন্য সাংবাদিকরা গিয়ে তাকে অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে উদ্ধার করেন।

•১২ মার্চ ( ২০১৯): বিশৃঙ্খলার অভিযোগে রোগীর দুই স্বজনকে (ইসমাইল আলী ও জ্যোতিন্দ্র বিশ্বাস) মারধরের নির্দেশ দেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। শুধু তাই নয়, আনসারদের দিয়ে জনসম্মوحة তাদের কান ধরিয়ে ওঠবস করানো হয় এবং সাদা কাগজে স্বাক্ষর রেখে ছেড়ে দেওয়া হয়।

•৪ সেপ্টেম্বর (২০১৮): রোগী দেখতে প্রবেশের সময় নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে বচসাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে রোগীর দুই স্বজন আহত হন।

 

•২০০৮ সাল: ১/১১-এর সময়ও কতিপয় ইন্টার্ন চিকিৎসকের হাতে ফটোসাংবাদিকরা আক্রান্ত হয়েছিলেন। সে সময় ঐক্যবদ্ধ প্রতিবাদের মুখে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও চিকিৎসকরা দুঃখ প্রকাশ করে বিষয়টির সুরাহা করলেও দীর্ঘমেয়াদে পরিস্থিতির কোনো স্থায়ী উন্নতি হয়নি।

 

 

ভুক্তভোগী ও সচেতন মহলের উদ্বেগ;

এসব ঘটনায় প্রায় প্রতিবারই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে, সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে কিংবা পুলিশ মামলা নিয়ে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছে। কিন্তু দীর্ঘসূত্রিতা ও কার্যকর পদক্ষেপের অভাবে বিচার নিশ্চিত না হওয়ায় অপরাধপ্রবণতা কমছে না।

 

বিশ্লেষকদের মতে, ওসমানী হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা যেমন নিশ্চিত করা জরুরি, তেমনি চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ বজায় রাখাও সমানভাবে আবশ্যক। কিন্তু তুচ্ছ ঘটনায় চিকিৎসাসেবা বন্ধ করে সাধারণ রোগীদের জিম্মি করা এবং বারবার সংঘর্ষের এই সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও হাসপাতাল প্রশাসনের কঠোর ও নিরপেক্ষ হস্তক্ষেপ অপরিহার্য।