টাঙ্গুয়ার হাওরের পরিবেশ সুরক্ষায় পর্যটকবাহী হাউসবোট চলাচলে নিষেধাজ্ঞা
- আপডেট সময়ঃ ১২:১৯:০১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬
- / ১৮ বার পড়া হয়েছে।
হকবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট:
০৪ আগস্ট ২০২৬
পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসন। প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) ঘোষিত টাঙ্গুয়ার হাওরের নির্ধারিত সীমানার মধ্যে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সব ধরনের পর্যটকবাহী হাউসবোট ও নৌযানের প্রবেশ এবং চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
একই সঙ্গে হাওরে চলাচলকারী সব নৌযানের মালিক ও পরিচালনাকারীদের আগামী ১০ আগস্টের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ বাধ্যতামূলকভাবে নিবন্ধন সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জেলা প্রশাসনের ব্যবসা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ শাখা থেকে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা জারি করা হয়।
গণবিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ‘টাঙ্গুয়ার ও হাকালুকি হাওর সুরক্ষা আদেশ, ২০২৫’-এর আওতায় হাওরের পরিবেশ, প্রতিবেশগত ভারসাম্য ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা, পর্যটন ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ১৩ দফা নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এসব নির্দেশনা অমান্য করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নির্দেশনা অনুযায়ী, ইসিএ ঘোষিত এলাকায় পূর্বানুমতি ছাড়া কোনো হাউসবোট বা পর্যটকবাহী নৌযান প্রবেশ করতে পারবে না। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিবন্ধনের আবেদন না করলে কোনো নৌযান পরিচালনার অনুমতিও দেওয়া হবে না।
হাওরের পরিবেশ সংরক্ষণের স্বার্থে হাউসবোটে উচ্চ শব্দে গান-বাজনা, মাইক বা সাউন্ড সিস্টেম ব্যবহার এবং যেকোনো ধরনের পার্টির আয়োজন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক বহন ও হাওরে যেকোনো ধরনের বর্জ্য ফেলা সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
প্রতিটি হাউসবোটে বাধ্যতামূলকভাবে সেপটিক ট্যাংক, কমপক্ষে দুটি ডাস্টবিন এবং বিশুদ্ধ পানির ফিল্টার রাখতে হবে। এছাড়া হাউসবোটের দৈর্ঘ্য সর্বোচ্চ ১০০ ফুটের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিটি নৌযানে পর্যাপ্ত সংখ্যক লাইফ জ্যাকেট, লাইফবয় রিং এবং অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র সংরক্ষণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। গ্যাস সিলিন্ডারের নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি পর্যটকদের জন্য করণীয় ও বর্জনীয় আচরণবিধি দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শনের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস এবং নিকটস্থ হাসপাতালের জরুরি যোগাযোগ নম্বর প্রতিটি নৌযানে সংরক্ষণ রাখতে হবে বলে নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়া দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া, আকস্মিক ঝড়, অতিবৃষ্টি কিংবা বজ্রপাতের সময় টাঙ্গুয়ার হাওরে পর্যটক পরিবহনসহ সব ধরনের নৌযান চলাচল সম্পূর্ণভাবে বন্ধ থাকবে।
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, টাঙ্গুয়ার হাওরের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় জারি করা এসব নির্দেশনা তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হয়েছে। নির্দেশনা বাস্তবায়নে নিয়মিত তদারকি চালানো হবে এবং কোনো ধরনের অনিয়ম বা নির্দেশনা লঙ্ঘনের ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।




















