সরকারকে আইনি নোটিশ,শিশু নিখোঁজের ভয়াবহ চিত্র: সাত মাসে হারিয়েছে ১৫ হাজারের বেশি
- আপডেট সময়ঃ ০৫:৫৪:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ৭ বার পড়া হয়েছে।
হকবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট;
সুনামগঞ্জ ।। ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সারাদেশে শিশু নিখোঁজের উদ্বেগজনক পরিসংখ্যান সামনে আসার পর এবার নিখোঁজ শিশুদের সুরক্ষা ও উদ্ধারে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে সরকারকে আইনি নোটিশ দেওয়া হয়েছে। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) ব্যারিস্টার ইশরাত হাসান এ নোটিশ দেন।
নোটিশে শিশু নিখোঁজের ঘটনা প্রতিরোধ, নিখোঁজ শিশুদের দ্রুত শনাক্ত ও উদ্ধারে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ, কেন্দ্রীয় মিসিং চিলড্রেন ডেটাবেজ/পোর্টাল প্রতিষ্ঠা এবং দ্রুত সতর্কতার জন্য কার্যকর মিসিং চাইল্ড অ্যালার্ট সিস্টেম চালুর দাবি জানানো হয়েছে।
সাত মাসে নিখোঁজ ১৫ হাজারের বেশি;
পুলিশ সদরদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত দেশে ১৫ হাজার ৭১৭ শিশুর নিখোঁজের তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ১৩ হাজার ৬৭৯ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। এখনো নিখোঁজ রয়েছে ২ হাজার ৩৮ শিশু।
অর্থাৎ, সাত মাসে নিখোঁজ হওয়া শিশুদের প্রায় ৮৭ শতাংশ উদ্ধার হলেও প্রতি ১০০ জনে প্রায় ১৩ জন এখনো নিখোঁজ রয়েছে।
পুলিশ সদরদপ্তরের এআইজি (মিডিয়া) এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন জানান, সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে ১৫ হাজারের বেশি শিশু নিখোঁজ হওয়ার খবর প্রকাশিত হয়। তবে উদ্ধার হওয়া শিশুদের তথ্য বাদ পড়ায় ওই প্রতিবেদনগুলোতে নিখোঁজের পূর্ণাঙ্গ চিত্র প্রতিফলিত হয়নি।
জনমনে বিভ্রান্তি নিরসনে সংশ্লিষ্ট থানাগুলোর মাধ্যমে তথ্য যাচাই-বাছাই করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
নিখোঁজের ঘটনায় ৯০ শতাংশের বেশি ১০-১৭ বছরের;
পুলিশের যাচাই করা পরিসংখ্যান বলছে, সাত মাসে শূন্য থেকে ৯ বছর বয়সী শিশু নিখোঁজের ঘটনায় ৪৭৪টি জিডি হয়েছে। এর মধ্যে ৪০৬ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। এখনো নিখোঁজ ৬৮ জন।
অন্যদিকে ১০ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিশু-কিশোর নিখোঁজের ঘটনায় জিডি হয়েছে ১৫ হাজার ২৪৩টি। এর মধ্যে ১৩ হাজার ২৭৩ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। এখনো নিখোঁজ ১ হাজার ৯৭০ জন।
অর্থাৎ মোট নিখোঁজের বড় অংশই ১০ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিশু-কিশোর।
পথ হারানো থেকে পারিবারিক অশান্তি—বিভিন্ন কারণ:
পুলিশ জানিয়েছে, ছোট শিশুদের নিখোঁজের পেছনে সাধারণত পরিবারের সঙ্গে অপরিচিত স্থানে গিয়ে পথ হারানো, পরিবারের সদস্যদের নাম-ঠিকানা বলতে না পারা কিংবা একা বাড়ি ফেরার সময় অন্যত্র চলে যাওয়ার মতো কারণ রয়েছে।
তবে ১০ থেকে ১৭ বছর বয়সীদের ক্ষেত্রে চিত্র ভিন্ন। অভিমান, পড়ালেখার চাপ, পারিবারিক কলহ ও অশান্তি, স্বাধীনভাবে জীবনযাপনের আকাঙ্ক্ষা, বন্ধু বা সহপাঠীদের প্রভাব এবং পরিবারের কাছ থেকে অর্থ বা অন্য সুবিধা পাওয়ার চেষ্টা—এসব কারণেও তারা বাড়ি থেকে চলে যায় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এ ছাড়া অনৈতিক কাজে জড়িয়ে পড়ার পর লজ্জা বা ভয়েও কেউ কেউ আত্মগোপনে থাকে।
তিন বছরে নিখোঁজের জিডি বেড়েছে;
পুলিশের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, নিখোঁজ সংক্রান্ত জিডির সংখ্যাতেও ওঠানামা রয়েছে। ২০২৩ সালে নিখোঁজের ঘটনায় জিডি হয়েছিল ১৭ হাজার ৮০৮টি। ২০২৪ সালে তা কমে ১৬ হাজার ৪১৪টিতে দাঁড়ায়। তবে ২০২৫ সালে এক বছরে নিখোঁজ সংক্রান্ত জিডি বেড়ে দাঁড়ায় ২২ হাজার ৫৫০টিতে।
পুলিশ সদরদপ্তর বলছে, অনলাইন জিডি চালুর ফলে সাধারণ মানুষের অভিযোগ করার সুযোগ সহজ হয়েছে। এতে নিখোঁজ সংক্রান্ত জিডির সংখ্যাও বেড়েছে।
তবে চলতি বছরের মাত্র সাত মাসে ১৫ হাজারের বেশি শিশুর নিখোঁজের তথ্য এবং এখনো দুই হাজারের বেশি শিশু নিখোঁজ থাকার বিষয়টি শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
সরকারকে দেওয়া আইনি নোটিশে তাই শুধু নিখোঁজের পর উদ্ধার নয়, নিখোঁজ প্রতিরোধ, দ্রুত তথ্য আদান-প্রদান এবং কেন্দ্রীয়ভাবে শিশুদের তথ্য সংরক্ষণ ও সতর্কতা ব্যবস্থা চালুর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।



















