‘জরুরি বিভাগে’ চেয়ার দিয়ে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে পেটানোর অভিযোগ -ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে
- আপডেট সময়ঃ ০৭:৫১:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
- / ৫৯ বার পড়া হয়েছে।
হকবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট;
সুনামগঞ্জ ।। ২৬ অক্টোবর ২০২৬
লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ভেতরে ঢুকে জুয়েল হোসেন (৩৮) নামের এক স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে চেয়ার দিয়ে পিটিয়ে রক্তাক্ত করার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদল নেতা মো. শাহেদের বিরুদ্ধে। গত রবিবার (২৫ অক্টোবর) রাতের এ ঘটনার একটি সিসিটিভি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে জেলাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় সোমবার (২৬ অক্টোবর) অভিযুক্ত শাহেদকে দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
আহত জুয়েল হোসেন লক্ষ্মীপুর পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি। অন্যদিকে অভিযুক্ত মো. শাহেদ দালাল বাজার ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী এবং পৌর ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।
ঘটনার সূত্রপাত ও বিবরণ:
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত রবিবার বিকেলে মুঠোফোন কেনাবেচাকে কেন্দ্র করে শাহেদ ও জুয়েলের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও মারামারির ঘটনা ঘটে। পরে ওই সংঘাতে আহত হয়ে চিকিৎসার জন্য সদর হাসপাতালে যান জুয়েল।
রাত আনুমানিক ৯টার দিকে শাহেদ তাঁর অনুসারীদের নিয়ে হাসপাতালে প্রবেশ করেন এবং চিকিৎসাধীন জুয়েলকে লক্ষ্য করে হামলা চালান। একপর্যায়ে আত্মরক্ষার্থে জুয়েল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের একটি চিকিৎসকের কক্ষে ঢুকে পড়েন। কিন্তু হামলাকারীরা কক্ষের ভেতরে ঢুকে পড়ে এবং জুয়েলকে চেয়ার দিয়ে বেধড়ক পেটানোর পাশাপাশি এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি ও লাথি মারে। এতে তিনি মারাত্মকভাবে জখম ও রক্তাক্ত হন। পরবর্তীতে দলীয় নেতাকর্মীদের সহযোগিতায় তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়।
চিকিৎসক ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া:
হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ভেতরে ঢুকে প্রকাশ্যে একজন রোগীকে এভাবে মারধরের ঘটনায় চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক বিরাজ করছে।
লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. অরূপ পাল এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, “হাসপাতালের মতো জরুরি সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের হামলা অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিরাপত্তাব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। পুরো ঘটনার দৃশ্য সিসিটিভি ক্যামেরায় স্পষ্টভাবে ধারণ হয়েছে। বিষয়টি আমরা তাৎক্ষণিকভাবে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পুলিশ প্রশাসনকে অবহিত করেছি। এ ঘটনায় আমাদের পুরো মেডিকেল টিম চরম আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে।”
সাংগঠনিক ব্যবস্থা:
ঘটনার পরপরই বিষয়টি নিয়ে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় মহলে সমালোচনার ঝড় ওঠে। জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আবুল বারাকাত সৌরভ ও সদস্যসচিব হাসিবুর রহমান অভির যৌথ স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে অভিযুক্ত মোশাহেদকে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে অব্যাহতি দেওয়ার কথা জানানো হয়।
জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আবুল বারাকাত সৌরভ বলেন, “সংগঠনের নীতি ও আদর্শ পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে মো. শাহেদকে সব ধরনের সাংগঠনিক পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। অপরাধীর দায় দল নেবে না।”
পুলিশের বক্তব্য:
লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওয়াহিদ পারভেজ জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে; তবে তাৎক্ষণিকভাবে সেখানে কাউকে পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে সিসিটিভি ফুটেজ যাচাই করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষকে মামলা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।




















