‘জাদুকাটা ‘ নদীর পুরোনো ভিডিও নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অভিযোগ,-নেপথ্যে বিশেষ মহলের স্বার্থ:
- আপডেট সময়ঃ ০১:২৫:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
- / ৩৬ বার পড়া হয়েছে।
হকবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট;
সুনামগঞ্জ ।। ২৭ অক্টোবর ২০২৬
সুনামগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী জাদুকাটা নদীর পুরাতন ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বর্তমান পরিস্থিতি হিসেবে প্রচার করে একটি স্বার্থান্বেষী চক্র অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির অপচেষ্টা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এই অপপ্রচারের মাধ্যমে নদী বন্ধের ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয় হাজার হাজার বালুশ্রমিক ও ব্যবসায়ী। এতে লাখো মানুষের জীবিকা ও রুটি-রুজির ওপর বড় ধরনের সংকট নেমে আসার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
অপপ্রচারের পেছনের প্রেক্ষাপট;
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে জাদুকাটা নদীর একটি পুরাতন ও ভিন্ন সময়ের ভিডিও বর্তমানের দৃশ্য দাবি করে আপলোড করা হয়। ভিডিওটিতে নদীর পরিবেশ বা পরিস্থিতির একটি নেতিবাচক দিক তুলে ধরে জনমনে আতঙ্ক ও বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করা হয়।
তবে নদীপাড়ের বাসিন্দা, স্থানীয় ব্যবসায়ী এবং শ্রমিকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, প্রচারিত ভিডিওটির বর্তমান পরিস্থিতির সাথে কোনো বাস্তব মিল নেই। একটি কুচক্রী মহল নিজেদের অবৈধ স্বার্থ হাসিল কিংবা ফায়দা লুটতে সুকৌশলে এই পুরোনো ভিডিও ছড়িয়ে দিয়েছে।
হুমকির মুখে হাজারো শ্রমিকের জীবিকা;
জাদুকাটা নদী কেবল একটি প্রমত্তা নদীই নয়, এটি এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম প্রধান প্রাণকেন্দ্র। নদীটির সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত রয়েছে—
হাজার হাজার সাধারণ বালু ও পাথর শ্রমিক
পরিবহন শ্রমিক ও নৌকাচালকরা
স্থানীয় ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ী এবং তাদের ওপর নির্ভরশীল পরিবারসমূহ!
শ্রমিক নেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, একটি কুচক্রীর প্ররোচনায় নদী কেন্দ্রিক কার্যক্রম বন্ধ বা বাধাগ্রস্ত করা হলে এই অঞ্চলের অর্থনীতিতে ধস নামবে। শ্রমিকদের মুখের গ্রাস কেড়ে নেওয়ার এই পাঁয়তারা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।
শ্রমিক ও স্থানীয়দের ৪ দফা দাবি;
পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং বাস্তবভিত্তিক পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট মহলের প্রতি ৪ দফা দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী শ্রমিক ও ব্যবসায়ীরা:
১.গুজব ও অপপ্রচার রোধ: পুরাতন ভিডিওকে বর্তমান ঘটনা হিসেবে চালিয়ে দিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি ও আতঙ্ক সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।
২.বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত: নদীসংক্রান্ত যেকোনো প্রশাসনিক বা নীতিগত সিদ্ধান্ত আবেগ বা গুজবের বশে না নিয়ে, বরং সরেজমিন বাস্তব পরিস্থিতি ও আইনগত অবস্থার ভিত্তিতে গ্রহণ করতে হবে।
৩.জীবিকা সুরক্ষা: দেশের এই সংকটময় সময়ে খেটে খাওয়া সাধারণ শ্রমিকদের কর্মসংস্থান ও জীবন-জীবিকা রক্ষার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করতে হবে।
৪.পরিবেশ ও স্বার্থের ভারসাম্য: নদীর প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার পাশাপাশি শ্রমিক ও ব্যবসায়ীদের আইনি অধিকার এবং রুটি-রুজি—উভয় পক্ষকেই সুরক্ষিত রাখতে হবে।
সংশ্লিষ্ট মহলের প্রতি আহ্বান;
বিশেষজ্ঞ ও সচেতন মহলের মতে, পরিবেশ রক্ষা এবং কর্মসংস্থান—দুটি বিষয়কেই সমান্তরালে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। কোনো ধরনের গুজবে কান না দিয়ে মূল সত্য উদ্ঘাটন এবং প্রকৃত তথ্য জাতির সামনে তুলে ধরার জন্য দায়িত্বশীল গণমাধ্যম ও প্রশাসনকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
“জাদুকাটা নদী রক্ষা পাক, শ্রমিকের জীবিকা সুরক্ষিত থাকুক—গুজব রুখে সত্য প্রকাশ করুন।”




















