১২:০৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

বিশাল স্বর্ণভাণ্ডার আবিষ্কারের ঘোষণা ইরানের

রিপোর্টার নামঃ
  • আপডেট সময়ঃ ০৬:৪৭:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / ১০১ বার পড়া হয়েছে।

‎দেশে অন্যতম বৃহৎ স্বর্ণখনিতে বিশাল নতুন স্বর্ণভাণ্ডার আবিষ্কারের ঘোষণা দিয়েছে ইরান। সোমবার স্থানীয় গণমাধ্যমে এ খবর প্রকাশ হয়েছে। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি। 

‎পূর্বাঞ্চলীয় দক্ষিণ খোরাসান প্রদেশে অবস্থিত বেসরকারি মালিকানাধীন শাদান স্বর্ণখনিতে নতুন এই ‘শিরা’ কাঠামো পাওয়া গেছে। 

‎ফার্স নিউজ এজেন্সি একে ‘দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খনিগুলোর একটি’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন মজুদগুলো শিল্প, খনি ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে যাচাই করেছে।

‎প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, দেশের পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত শাদান স্বর্ণখনির প্রমাণিত মজুদ বিশাল স্বর্ণশিরা আবিষ্কারের পর উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে উল্লেখ করা হয়েছে, সেখানে রয়েছে ৭.৯৫ মিলিয়ন টন অক্সাইড স্বর্ণ আকরিক এবং ৫৩.১ মিলিয়ন টন সালফাইড স্বর্ণ আকরিক।

‎অক্সাইড আকরিক সাধারণত উত্তোলন করা তুলনামূলকভাবে সহজ ও কম ব্যয়বহুল। ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে তার জাতীয় স্বর্ণের মজুদের পরিমাণ প্রকাশ করেনি। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে স্বর্ণ কেনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি ঘটেছে বলে দাবি করে তারা।

‎গত সেপ্টেম্বর ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর মোহাম্মদর রেজা ফারজিন বলেন, ২০২৩-২০২৪ সালে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিশ্বে সর্বাধিক স্বর্ণক্রয়কারী পাঁচ ব্যাংকের একটি ছিল। স্থানীয় গণমাধ্যম কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তা ইয়েকতা আশরাফির উদ্ধৃতি দিয়ে জানায়, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার চাপের মধ্যে দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী করতে স্বর্ণের মজুদ বাড়ানো সহায়ক হবে।

‎ইরানে মোট ১৫টি স্বর্ণখনি রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড়টি উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের জারশোরান খনি। যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলো তেহরানের বিরুদ্ধে পরমাণু কর্মসূচির সামরিকীকরণের অভিযোগ আনার পর আরোপিত নিষেধাজ্ঞায় ইরানের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এ অভিযোগ তেহরান বরাবরই অস্বীকার করে।

‎ইসরাইলের নজিরবিহীন হামলার পর শুরু হওয়া ১২ দিনের যুদ্ধে, যুক্তরাষ্ট্র সাময়িকভাবে ইসরাইলের সাথে ইরানের পরমাণু স্থাপনা লক্ষ্য করায় দেশের অর্থনৈতিক সংকট আরও গভীর হয়েছে। অত্যধিক মুদ্রাস্ফীতি এবং রিয়ালের অবমূল্যায়নের কারণে ক্রমাগত ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ায় অনেক ইরানির কাছে স্বর্ণ একটি নিরাপদ সম্পদ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

‎সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের ডলার অনানুষ্ঠানিক বাজারে প্রায় ১১.৭ লাখ রিয়াল এবং ইউরো প্রায় ১৩.৬ লাখ রিয়ালে লেনদেন হয়েছে, বিনিময় হার পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইট বোনবাস্ট ও আলানচান্ড এ তথ্য দিয়েছে।

‎এই পরিস্থিতিতে ইরানের সাধারণ জনগণ স্বর্ণের দিকে ঝুঁকছে, কারণ এটি তাদের জন্য একটি নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। স্বর্ণের মূল্য স্থিতিশীল থাকার কারণে, অনেকেই তাদের সঞ্চয় রক্ষার জন্য স্বর্ণ কিনছেন। একই সঙ্গে, স্বর্ণের ক্রমবর্ধমান চাহিদা দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে স্বর্ণের মূল্য বৃদ্ধিতে সহায়ক হচ্ছে।

‎বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইরানের অর্থনৈতিক সংকটের সময় স্বর্ণের মজুদ বাড়ানো দেশটির অর্থনীতির জন্য দীর্ঘমেয়াদে উপকারী হতে পারে। এছাড়াও, দেশের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বাড়ানোর মাধ্যমে বিদেশি নির্ভরতা কমানোর চেষ্টা করছে ইরান।

‎তথ্য সহায়তাঃমানবজমিন

ট্যাগসঃ

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

বিশাল স্বর্ণভাণ্ডার আবিষ্কারের ঘোষণা ইরানের

আপডেট সময়ঃ ০৬:৪৭:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ ডিসেম্বর ২০২৫

‎দেশে অন্যতম বৃহৎ স্বর্ণখনিতে বিশাল নতুন স্বর্ণভাণ্ডার আবিষ্কারের ঘোষণা দিয়েছে ইরান। সোমবার স্থানীয় গণমাধ্যমে এ খবর প্রকাশ হয়েছে। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি। 

‎পূর্বাঞ্চলীয় দক্ষিণ খোরাসান প্রদেশে অবস্থিত বেসরকারি মালিকানাধীন শাদান স্বর্ণখনিতে নতুন এই ‘শিরা’ কাঠামো পাওয়া গেছে। 

‎ফার্স নিউজ এজেন্সি একে ‘দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খনিগুলোর একটি’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন মজুদগুলো শিল্প, খনি ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে যাচাই করেছে।

‎প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, দেশের পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত শাদান স্বর্ণখনির প্রমাণিত মজুদ বিশাল স্বর্ণশিরা আবিষ্কারের পর উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে উল্লেখ করা হয়েছে, সেখানে রয়েছে ৭.৯৫ মিলিয়ন টন অক্সাইড স্বর্ণ আকরিক এবং ৫৩.১ মিলিয়ন টন সালফাইড স্বর্ণ আকরিক।

‎অক্সাইড আকরিক সাধারণত উত্তোলন করা তুলনামূলকভাবে সহজ ও কম ব্যয়বহুল। ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে তার জাতীয় স্বর্ণের মজুদের পরিমাণ প্রকাশ করেনি। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে স্বর্ণ কেনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি ঘটেছে বলে দাবি করে তারা।

‎গত সেপ্টেম্বর ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর মোহাম্মদর রেজা ফারজিন বলেন, ২০২৩-২০২৪ সালে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিশ্বে সর্বাধিক স্বর্ণক্রয়কারী পাঁচ ব্যাংকের একটি ছিল। স্থানীয় গণমাধ্যম কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তা ইয়েকতা আশরাফির উদ্ধৃতি দিয়ে জানায়, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার চাপের মধ্যে দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী করতে স্বর্ণের মজুদ বাড়ানো সহায়ক হবে।

‎ইরানে মোট ১৫টি স্বর্ণখনি রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড়টি উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের জারশোরান খনি। যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলো তেহরানের বিরুদ্ধে পরমাণু কর্মসূচির সামরিকীকরণের অভিযোগ আনার পর আরোপিত নিষেধাজ্ঞায় ইরানের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এ অভিযোগ তেহরান বরাবরই অস্বীকার করে।

‎ইসরাইলের নজিরবিহীন হামলার পর শুরু হওয়া ১২ দিনের যুদ্ধে, যুক্তরাষ্ট্র সাময়িকভাবে ইসরাইলের সাথে ইরানের পরমাণু স্থাপনা লক্ষ্য করায় দেশের অর্থনৈতিক সংকট আরও গভীর হয়েছে। অত্যধিক মুদ্রাস্ফীতি এবং রিয়ালের অবমূল্যায়নের কারণে ক্রমাগত ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ায় অনেক ইরানির কাছে স্বর্ণ একটি নিরাপদ সম্পদ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

‎সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের ডলার অনানুষ্ঠানিক বাজারে প্রায় ১১.৭ লাখ রিয়াল এবং ইউরো প্রায় ১৩.৬ লাখ রিয়ালে লেনদেন হয়েছে, বিনিময় হার পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইট বোনবাস্ট ও আলানচান্ড এ তথ্য দিয়েছে।

‎এই পরিস্থিতিতে ইরানের সাধারণ জনগণ স্বর্ণের দিকে ঝুঁকছে, কারণ এটি তাদের জন্য একটি নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। স্বর্ণের মূল্য স্থিতিশীল থাকার কারণে, অনেকেই তাদের সঞ্চয় রক্ষার জন্য স্বর্ণ কিনছেন। একই সঙ্গে, স্বর্ণের ক্রমবর্ধমান চাহিদা দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে স্বর্ণের মূল্য বৃদ্ধিতে সহায়ক হচ্ছে।

‎বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইরানের অর্থনৈতিক সংকটের সময় স্বর্ণের মজুদ বাড়ানো দেশটির অর্থনীতির জন্য দীর্ঘমেয়াদে উপকারী হতে পারে। এছাড়াও, দেশের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বাড়ানোর মাধ্যমে বিদেশি নির্ভরতা কমানোর চেষ্টা করছে ইরান।

‎তথ্য সহায়তাঃমানবজমিন