ভাইয়ের ৪ বছরের মেয়েকে হত্যা করে, বাক্সে রাখার অভিযোগ ফুফুর বিরুদ্ধে
- আপডেট সময়ঃ ০৫:৫২:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ৩৩ বার পড়া হয়েছে।
হকবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট;
সুনামগঞ্জ ।। ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বান্দরবান সদর উপজেলায় চার বছর বয়সী শিশু তাইফা সুলতানাকে নির্মমভাবে শ্বাসরোধে হত্যা করে লাশ বাক্সে লুকিয়ে রাখার ঘটনায় শিশুটির ফুফু নারগিছ সুলতানাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ক্লোজড সার্কিট টিভি (সিসিটিভি) ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পুলিশ অভিযুক্তের ঘরের ট্রাঙ্ক বা বাক্স থেকে ওই শিশুর নিথর দেহ উদ্ধার করে।
পুলিশ ও ভুক্তভোগীর পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকাল থেকে শিশু তাইফাকে খুঁজে পাচ্ছিলেন না স্বজনরা। পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও কোনো সন্ধান না পেয়ে শেষপর্যন্ত বান্দরবান সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে যান।
জিডির প্রেক্ষাপটে পুলিশ ঘটনার তদন্তে নামে এবং তাইফাদের বাড়িতে স্থাপিত সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করে। সিসিটিভি ফুটেজে স্পষ্ট দেখা যায়, সোমবার সকালে অভিযুক্ত ফুফু নারগিছ সুলতানা শিশু তাইফাকে নিজের কক্ষে ডেকে নিয়ে যাচ্ছেন। এরপর আর শিশুটিকে ওই কক্ষ থেকে বের হতে দেখা যায়নি।
ভিডিও ফুটেজের তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ দ্রুত নারগিছ সুলতানার কক্ষে অভিযান ও তল্লাশি চালায়। তল্লাশিকালে ঘরের একটি বাক্সের ভেতর থেকে শিশু তাইফার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পারিবারিক কলহ ও হত্যার নেপথ্য:
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত নারগিছ সুলতানা শিশু তাইফাকে গলা টিপে হত্যা করার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। নিহত শিশুর এক আত্মীয় জানান, তাইফার বাবা টিপু খান দীর্ঘ দিন প্রবাসে কর্মরত ছিলেন। প্রবাসে অর্জিত অর্থ দিয়ে তিনি ভাই-বোনদের নামে যৌথ মালিকানায় জমি কিনে দেন। তবে সম্প্রতি দেশে ফেরার পর সেই জমির মালিকানা ও ভাগবাটোয়ারা নিয়ে ভাই-বোনদের মধ্যে তীব্র বিরোধ ও কোন্দল দেখা দেয়। ধারণ করা হচ্ছে, সেই পারিবারিক কোন্দল ও ক্ষোভের বলির পাঁঠা হয়েছে নিষ্পাপ শিশু তাইফা।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বান্দরবান সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদ পারভেজ জানান, “অভিযুক্ত ফুফু নারগিছ সুলতানাকে আটক করা হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি শিশুকে গলা টিপে হত্যা করার কথা স্বীকার করেছেন। সিসিটিভি ফুটেজ এবং আসামির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মূল রহস্য উদঘাটন সম্ভব হয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ ও মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”










