০৪:২৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬

যাদুকাটা নদীতে ‘খাস কালেকশনের’ নামে বেপরোয়া চাঁদাবাজির অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময়ঃ ০৩:৪৮:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬
  • / ৩৩ বার পড়া হয়েছে।

 

হকবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট;

সুনামগঞ্জ ।। ০১ অক্টোবর ২০২৬

 

 

তাহিরপুর-বিশ্বম্ভরপুর সীমান্তবর্তী যাদুকাটা নদীতে নৌযান থেকে ‘খাস কালেকশনের’ নামে বেপরোয়া চাঁদাবাজি চলছে। চাঁদাবাজদের দৌরাত্ম্যে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন নৌযান মালিক, শ্রমিক ও ব্যবসায়ীরা।

 

গত মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে তাহিরপুর উপজেলার দক্ষিণকুল-আনোয়ারপুর গ্রামের কাছাকাছি যাদুকাটা ও রক্তি নদীর সংযোগস্থলের ‘নতুন পয়েন্টে’ টেকেরঘাট থেকে কয়লা নিয়ে সুনামগঞ্জের দিকে যাওয়ার পথে একটি কয়লাবাহী বাল্কহেড আটকে ৯০ হাজার টাকা দাবি করে ‘খাস কালেকশনে’র লোকজন। টাকা না দেওয়ায় নৌযানটি রাতভর আটকে রাখা হয়।

 

 

নৌযান শ্রমিকদের ভাষ্য, টেকেরঘাট থেকে কয়লা নিয়ে ‘মেসার্স হক ব্রিক্স-১’ নামের একটি বাল্কহেড সুনামগঞ্জের উদ্দেশে রওনা হয়। যাত্রাপথে আনোয়ারপুর-দক্ষিণকুল এলাকার নদীতে পৌঁছলে কয়েকজন লোক নৌযানটির গতিরোধ করেন। পরে সুকানি ও শ্রমিকদের কাছে ‘খাস কালেকশন’ বাবদ ৯০ হাজার টাকা দাবি করা হয়।

 

 

নৌযানটির সুকানি শাহাবুদ্দিন বলেন, টেকেরঘাট থেকে যাত্রার আগেই বিআইডব্লিউটিএ’র টোলসহ নির্ধারিত খাতে টাকা পরিশোধ করে রশিদ নেওয়া হয়েছে। এরপরও নদীর মধ্যে নৌযান আটকে নতুন করে খাস কালেকশনের নামে ৯০ হাজার টাকা দাবি করা হলে তারা এর বৈধতা জানতে চান। শাহাবুদ্দিন আরও বলেন, আমরা টেকেরঘাটে বিআইডব্লিউটিএ ও কোটগাড়ি বাবদ টাকা দিয়ে এসেছি। তারপরও কথিত খাস কালেকশনের নামে কেন ৯০ হাজার টাকা দিতে হবে – এ কথা বলার পর তাদের সঙ্গে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে আমাদের নৌযানটি আটকে রাখা হয়।

 

 

নৌশ্রমিকদের অভিযোগ, প্রথম দফায় স্থানীয় বালিজুরী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য বাবুল মিয়ার মধ্যস্থতায় নৌযানটি ছেড়ে দেওয়া হলেও পরে আবার সেটির গতিরোধ করা হয়। এ সময় খাস কালেকশনের মূল হোতা জবা মিয়ার নেতৃত্বাধীন একটি সিন্ডিকেট পুনরায় ৯০ হাজার টাকা দাবি করে। টাকা না দেওয়ায় সকাল পর্যন্ত নৌযানটি নদীতীরে আটকে রাখা হয়।

 

 

সরেজমিনে বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকালে ঘটনাস্থলে গিয়ে নদীর তীরে কয়লাবাহী নৌযানটির অবস্থান দেখা যায়। নৌযানের চালক-সুকানি ও শ্রমিকদের কয়েকজনকে নৌযানের পাশে ছিলেন। এক পর্যায়ে গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতি টের পেয়ে নৌযানটি ছেড়ে দেয় ‘খাস কালেকশন’ আদায়কারীর লোকজন।

 

 

স্থানীয়রা অভিযোগ করে জানান, কাগজপত্রে উপজেলা প্রশাসন খাস কালেকশন আদায় দেখালেও মূলত চলছে চাঁদাবাজি। তাহিরপুর উপজেলার দক্ষিণকুল-আনোয়ারপুর গ্রামের কাছাকাছি যাদুকাটা ও রক্তি নদীর সংযোগস্থলসহ বিভিন্ন পয়েন্টে কথিত ‘খাস কালেকশন’ আদায়কারীরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তারা নিজেদের খেয়ালখুশি মতো নৌযান থেকে চাঁদা আদায় করছে। চাহিদা অনুযায়ী চাঁদা না দিলে নৌকায় থাকা মাঝি ও শ্রমিকদের নির্যাতন করা হয়।

 

এ বিষয়ে তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিপা মণি দেবী বলেন, আমি এখানে নতুন এসেছি। বিষয়টি পরে জানতে পেরেছি। পুলিশকে পাঠিয়ে খোঁজ নেওয়া হয়েছে; তবে তখন নৌযানটি সেখানে পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে এ ধরনের ঘটনা ঘটলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

এদিকে, খাস কালেকশনের নামে চাঁদাবাজির বিষয়ে জানতে জবা মিয়ার সাথে যোগাযোগ করেও কথা বলা সম্ভব হয়নি।

ট্যাগসঃ

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

যাদুকাটা নদীতে ‘খাস কালেকশনের’ নামে বেপরোয়া চাঁদাবাজির অভিযোগ

আপডেট সময়ঃ ০৩:৪৮:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬

 

হকবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট;

সুনামগঞ্জ ।। ০১ অক্টোবর ২০২৬

 

 

তাহিরপুর-বিশ্বম্ভরপুর সীমান্তবর্তী যাদুকাটা নদীতে নৌযান থেকে ‘খাস কালেকশনের’ নামে বেপরোয়া চাঁদাবাজি চলছে। চাঁদাবাজদের দৌরাত্ম্যে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন নৌযান মালিক, শ্রমিক ও ব্যবসায়ীরা।

 

গত মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে তাহিরপুর উপজেলার দক্ষিণকুল-আনোয়ারপুর গ্রামের কাছাকাছি যাদুকাটা ও রক্তি নদীর সংযোগস্থলের ‘নতুন পয়েন্টে’ টেকেরঘাট থেকে কয়লা নিয়ে সুনামগঞ্জের দিকে যাওয়ার পথে একটি কয়লাবাহী বাল্কহেড আটকে ৯০ হাজার টাকা দাবি করে ‘খাস কালেকশনে’র লোকজন। টাকা না দেওয়ায় নৌযানটি রাতভর আটকে রাখা হয়।

 

 

নৌযান শ্রমিকদের ভাষ্য, টেকেরঘাট থেকে কয়লা নিয়ে ‘মেসার্স হক ব্রিক্স-১’ নামের একটি বাল্কহেড সুনামগঞ্জের উদ্দেশে রওনা হয়। যাত্রাপথে আনোয়ারপুর-দক্ষিণকুল এলাকার নদীতে পৌঁছলে কয়েকজন লোক নৌযানটির গতিরোধ করেন। পরে সুকানি ও শ্রমিকদের কাছে ‘খাস কালেকশন’ বাবদ ৯০ হাজার টাকা দাবি করা হয়।

 

 

নৌযানটির সুকানি শাহাবুদ্দিন বলেন, টেকেরঘাট থেকে যাত্রার আগেই বিআইডব্লিউটিএ’র টোলসহ নির্ধারিত খাতে টাকা পরিশোধ করে রশিদ নেওয়া হয়েছে। এরপরও নদীর মধ্যে নৌযান আটকে নতুন করে খাস কালেকশনের নামে ৯০ হাজার টাকা দাবি করা হলে তারা এর বৈধতা জানতে চান। শাহাবুদ্দিন আরও বলেন, আমরা টেকেরঘাটে বিআইডব্লিউটিএ ও কোটগাড়ি বাবদ টাকা দিয়ে এসেছি। তারপরও কথিত খাস কালেকশনের নামে কেন ৯০ হাজার টাকা দিতে হবে – এ কথা বলার পর তাদের সঙ্গে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে আমাদের নৌযানটি আটকে রাখা হয়।

 

 

নৌশ্রমিকদের অভিযোগ, প্রথম দফায় স্থানীয় বালিজুরী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য বাবুল মিয়ার মধ্যস্থতায় নৌযানটি ছেড়ে দেওয়া হলেও পরে আবার সেটির গতিরোধ করা হয়। এ সময় খাস কালেকশনের মূল হোতা জবা মিয়ার নেতৃত্বাধীন একটি সিন্ডিকেট পুনরায় ৯০ হাজার টাকা দাবি করে। টাকা না দেওয়ায় সকাল পর্যন্ত নৌযানটি নদীতীরে আটকে রাখা হয়।

 

 

সরেজমিনে বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকালে ঘটনাস্থলে গিয়ে নদীর তীরে কয়লাবাহী নৌযানটির অবস্থান দেখা যায়। নৌযানের চালক-সুকানি ও শ্রমিকদের কয়েকজনকে নৌযানের পাশে ছিলেন। এক পর্যায়ে গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতি টের পেয়ে নৌযানটি ছেড়ে দেয় ‘খাস কালেকশন’ আদায়কারীর লোকজন।

 

 

স্থানীয়রা অভিযোগ করে জানান, কাগজপত্রে উপজেলা প্রশাসন খাস কালেকশন আদায় দেখালেও মূলত চলছে চাঁদাবাজি। তাহিরপুর উপজেলার দক্ষিণকুল-আনোয়ারপুর গ্রামের কাছাকাছি যাদুকাটা ও রক্তি নদীর সংযোগস্থলসহ বিভিন্ন পয়েন্টে কথিত ‘খাস কালেকশন’ আদায়কারীরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তারা নিজেদের খেয়ালখুশি মতো নৌযান থেকে চাঁদা আদায় করছে। চাহিদা অনুযায়ী চাঁদা না দিলে নৌকায় থাকা মাঝি ও শ্রমিকদের নির্যাতন করা হয়।

 

এ বিষয়ে তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিপা মণি দেবী বলেন, আমি এখানে নতুন এসেছি। বিষয়টি পরে জানতে পেরেছি। পুলিশকে পাঠিয়ে খোঁজ নেওয়া হয়েছে; তবে তখন নৌযানটি সেখানে পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে এ ধরনের ঘটনা ঘটলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

এদিকে, খাস কালেকশনের নামে চাঁদাবাজির বিষয়ে জানতে জবা মিয়ার সাথে যোগাযোগ করেও কথা বলা সম্ভব হয়নি।