১২:২৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬
শ্রমিক ঠকানোর অভিযোগে উত্তাল ঢাবিঃ

সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের বিচারের দাবিতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

হক বার্তা ডেস্ক রিপোর্টঃ
  • আপডেট সময়ঃ ১১:০৩:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬
  • / ৮ বার পড়া হয়েছে।

শান্তিতে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ, সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে শ্রমিকদের পাওনা বঞ্চিত করা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে উত্তাল হয়ে উঠেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাস। 

বিতর্কিত এই অর্থনীতিবিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে আজ বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

‎বৃহস্পতিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি সংলগ্ন রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে ‘সাধারণ শিক্ষার্থীবৃন্দ’ ব্যানার নিয়ে শতাধিক শিক্ষার্থী জড়ো হন। এসময় তাদের হাতে ড. ইউনূসের কথিত ‘শ্রমিক শোষণ’ ও ‘সুদ ব্যবসা’র বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড ও ফেস্টুন দেখা যায়।

 

‎সমাবেশে ছাত্র প্রতিনিধিরা ড. ইউনূসের সাম্প্রতিক আইনি জটিলতা ও শ্রম আদালতের মামলাগুলো উল্লেখ করে তীব্র সমালোচনা করেন। বক্তারা বলেন, “যিনি বিশ্বজুড়ে দারিদ্র্য বিমোচনের কথা বলে পরিচিতি পেয়েছেন, তিনিই নিজের প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকদের লভ্যাংশ থেকে বঞ্চিত করেছেন। এটি কেবল আইনি অপরাধ নয়, বরং চরম নৈতিক স্খলন।”

‎শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, ড. ইউনূস আন্তর্জাতিক লবিস্ট ব্যবহার করে দেশের বিচার ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করছেন।

তারা বলেন, “আইন সবার জন্য সমান। নোবেলজয়ী হলেই কেউ আইনের ঊর্ধ্বে চলে যান না। গ্রামীণ টেলিকমের শ্রমিকদের রক্ত পানি করা টাকা আত্মসাতের বিচার এই বাংলার মাটিতেই হতে হবে।”

‎সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল রাজু ভাস্কর্য থেকে শুরু হয়ে কলা ভবন ও মল চত্বর হয়ে পুনরায় টিএসসিতে এসে শেষ হয়। মিছিল চলাকালীন শিক্ষার্থীরা ‘সুদখোর ইউনূসের আস্তানা, এই বাংলায় হবে না’, ‘শ্রমিক ঠকানো ড. ইউনূসের ফাঁসি চাই’, এবং ‘লবিস্ট নিয়োগ বন্ধ করো, সঠিক বিচার নিশ্চিত করো’— এমন সব ঝাঁঝালো স্লোগান দিতে থাকেন।

‎বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে শিক্ষার্থীরা সরকারের প্রতি আহ্বান জানান যেন ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে চলমান মামলাগুলো কোনো ধরনের আন্তর্জাতিক চাপের মুখে স্থবির না হয়। তারা দ্রুত বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভুক্তভোগী শ্রমিকদের পাওনা বুঝিয়ে দেওয়া এবং অপরাধ প্রমাণিত হলে কঠোর শাস্তির দাবি জানান।

‎সাম্প্রতিক সময়ে গ্রামীণ টেলিকমের শ্রমিকদের লভ্যাংশ পাচার ও কর ফাঁকির মামলায় ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে আইনি চাপ বাড়ার পর থেকেই ক্যাম্পাসে এই ক্ষোভ দানা বাঁধছিল।

আজকের এই বিক্ষোভ কর্মসূচির মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা স্পষ্ট বার্তা দিলেন যে, জাতীয় স্বার্থ ও শ্রমিকের অধিকারের প্রশ্নে তারা কোনো আপস করতে রাজি নন।

 

 

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

শ্রমিক ঠকানোর অভিযোগে উত্তাল ঢাবিঃ

সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের বিচারের দাবিতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

আপডেট সময়ঃ ১১:০৩:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬

শান্তিতে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ, সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে শ্রমিকদের পাওনা বঞ্চিত করা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে উত্তাল হয়ে উঠেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাস। 

বিতর্কিত এই অর্থনীতিবিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে আজ বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

‎বৃহস্পতিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি সংলগ্ন রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে ‘সাধারণ শিক্ষার্থীবৃন্দ’ ব্যানার নিয়ে শতাধিক শিক্ষার্থী জড়ো হন। এসময় তাদের হাতে ড. ইউনূসের কথিত ‘শ্রমিক শোষণ’ ও ‘সুদ ব্যবসা’র বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড ও ফেস্টুন দেখা যায়।

 

‎সমাবেশে ছাত্র প্রতিনিধিরা ড. ইউনূসের সাম্প্রতিক আইনি জটিলতা ও শ্রম আদালতের মামলাগুলো উল্লেখ করে তীব্র সমালোচনা করেন। বক্তারা বলেন, “যিনি বিশ্বজুড়ে দারিদ্র্য বিমোচনের কথা বলে পরিচিতি পেয়েছেন, তিনিই নিজের প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকদের লভ্যাংশ থেকে বঞ্চিত করেছেন। এটি কেবল আইনি অপরাধ নয়, বরং চরম নৈতিক স্খলন।”

‎শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, ড. ইউনূস আন্তর্জাতিক লবিস্ট ব্যবহার করে দেশের বিচার ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করছেন।

তারা বলেন, “আইন সবার জন্য সমান। নোবেলজয়ী হলেই কেউ আইনের ঊর্ধ্বে চলে যান না। গ্রামীণ টেলিকমের শ্রমিকদের রক্ত পানি করা টাকা আত্মসাতের বিচার এই বাংলার মাটিতেই হতে হবে।”

‎সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল রাজু ভাস্কর্য থেকে শুরু হয়ে কলা ভবন ও মল চত্বর হয়ে পুনরায় টিএসসিতে এসে শেষ হয়। মিছিল চলাকালীন শিক্ষার্থীরা ‘সুদখোর ইউনূসের আস্তানা, এই বাংলায় হবে না’, ‘শ্রমিক ঠকানো ড. ইউনূসের ফাঁসি চাই’, এবং ‘লবিস্ট নিয়োগ বন্ধ করো, সঠিক বিচার নিশ্চিত করো’— এমন সব ঝাঁঝালো স্লোগান দিতে থাকেন।

‎বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে শিক্ষার্থীরা সরকারের প্রতি আহ্বান জানান যেন ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে চলমান মামলাগুলো কোনো ধরনের আন্তর্জাতিক চাপের মুখে স্থবির না হয়। তারা দ্রুত বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভুক্তভোগী শ্রমিকদের পাওনা বুঝিয়ে দেওয়া এবং অপরাধ প্রমাণিত হলে কঠোর শাস্তির দাবি জানান।

‎সাম্প্রতিক সময়ে গ্রামীণ টেলিকমের শ্রমিকদের লভ্যাংশ পাচার ও কর ফাঁকির মামলায় ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে আইনি চাপ বাড়ার পর থেকেই ক্যাম্পাসে এই ক্ষোভ দানা বাঁধছিল।

আজকের এই বিক্ষোভ কর্মসূচির মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা স্পষ্ট বার্তা দিলেন যে, জাতীয় স্বার্থ ও শ্রমিকের অধিকারের প্রশ্নে তারা কোনো আপস করতে রাজি নন।