১২:১৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

হাওর রক্ষা ও বৈষম্য দূরীকরণের দাবি: সুবিপ্রবির ক্যাম্পাস স্থানান্তরে উত্তাল সুনামগঞ্জ

হক বার্তা ডেস্ক রিপোর্টঃ
  • আপডেট সময়ঃ ০৯:২১:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬
  • / ৯ বার পড়া হয়েছে।

সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (সুবিপ্রবি) স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণকে কেন্দ্র করে উত্তাল হয়ে উঠেছে সুনামগঞ্জ। বিগত সরকারের উন্নয়ন বৈষম্যের অবসান এবং পরিবেশগত বিপর্যয়ের হাত থেকে ‘দেখার হাওর’ রক্ষার দাবিতে এবার রাজপথে নেমেছেন জেলার সর্বস্তরের মানুষ। 

‎জেলা শহরে অনুষ্ঠিত এক বিশাল গণমিছিল ও সমাবেশ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়টির ক্যাম্পাস জেলা সদরের পাশে কোনো অ-হাওর খাস জমিতে স্থানান্তরের জোরালো দাবি জানানো হয়েছে।

‎বিক্ষোভকারীরা স্পষ্ট জানিয়েছেন, পরিবেশ ধ্বংস করে এবং অন্যান্য উপজেলাকে বঞ্চিত করে কোনো একমুখী উন্নয়ন তারা মেনে নেবেন না। সমাবেশ শেষে আন্দোলনকারীরা জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর একটি স্মারকলিপিও প্রদান করেন।

ঐতিহ্য জাদুঘর প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিগত সরকারের সাবেক পরিকল্পনামন্ত্রী তাঁর ক্ষমতার অপব্যবহার করে জেলার বড় বড় উন্নয়ন প্রকল্প এবং এই বিশ্ববিদ্যালয়টি তাঁর নিজ এলাকা শান্তিগঞ্জের কাছাকাছি নিয়ে গেছেন।

এর ফলে জেলা সদরসহ বাকি ১১টি উপজেলার মানুষ চরম যাতায়াত বৈষম্যের শিকার হয়েছেন। সমাবেশে উপস্থিত বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বর্তমান সরকার যখন দেশ থেকে সব ধরনের বৈষম্য দূর করার অঙ্গীকার নিয়ে কাজ করছে, তখন সুনামগঞ্জের এই দীর্ঘদিনের বঞ্চনা ও আঞ্চলিক বৈষম্যের অবসান হওয়া অত্যন্ত জরুরি।

SBB 1

‎আন্দোলনকারীদের প্রধান আপত্তির জায়গা হচ্ছে ‘দেখার হাওর’। বক্তাদের মতে, এই হাওরটি সুনামগঞ্জের বোরো ধান ও মিঠা পানির মাছের অন্যতম প্রধান উৎস। সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কের পাশে ইতিমধ্যে মেডিকেল কলেজ ও টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট গড়ে ওঠায় ওই অঞ্চলের ওপর পরিবেশগত চাপ এমনিতেই বাড়ছে।

‎এখন যদি দেখার হাওর ভরাট করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সুউচ্চ ভবন ও অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়, তবে তা প্রাকৃতিক পরিবেশ ধ্বংস করবে। এতে দীর্ঘমেয়াদি জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হবে, যা শেষ পর্যন্ত জেলার সামগ্রিক কৃষি উৎপাদনে ধস নামাবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন পরিবেশ কর্মীরা।

‎শুধুমাত্র বিরোধিতাই নয়, আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে একটি যৌক্তিক বিকল্প প্রস্তাবও তুলে ধরা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় বাস্তবায়ন আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ জানান, সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার জুগীরগাঁও মৌজায় প্রায় ২১৮.৫৯ একর পতিত সরকারি খাস জমি রয়েছে। এই খাস জমিতে ক্যাম্পাস স্থাপন করা হলে সরকারের জমি অধিগ্রহণের পেছনে বিপুল পরিমাণ টাকা সাশ্রয় হবে।

‎একই সাথে স্থানটি অ-হাওর এলাকায় হওয়ায় পরিবেশের কোনো ক্ষতি হবে না এবং জেলা সদরের কাছাকাছি হওয়ায় সবকটি উপজেলার শিক্ষার্থীদের জন্য যাতায়াত করাও অনেক সুবিধাজনক হবে।

‎অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক চিত্ত রঞ্জন তালুকদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে বিএনপি, ছাত্রদলসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও পরিবেশবাদী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।

‎সমাবেশ শেষে একটি বিশাল গণমিছিল শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে শেষ হয় এবং সেখানে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি হস্তান্তর করা হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

হাওর রক্ষা ও বৈষম্য দূরীকরণের দাবি: সুবিপ্রবির ক্যাম্পাস স্থানান্তরে উত্তাল সুনামগঞ্জ

আপডেট সময়ঃ ০৯:২১:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬

সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (সুবিপ্রবি) স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণকে কেন্দ্র করে উত্তাল হয়ে উঠেছে সুনামগঞ্জ। বিগত সরকারের উন্নয়ন বৈষম্যের অবসান এবং পরিবেশগত বিপর্যয়ের হাত থেকে ‘দেখার হাওর’ রক্ষার দাবিতে এবার রাজপথে নেমেছেন জেলার সর্বস্তরের মানুষ। 

‎জেলা শহরে অনুষ্ঠিত এক বিশাল গণমিছিল ও সমাবেশ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়টির ক্যাম্পাস জেলা সদরের পাশে কোনো অ-হাওর খাস জমিতে স্থানান্তরের জোরালো দাবি জানানো হয়েছে।

‎বিক্ষোভকারীরা স্পষ্ট জানিয়েছেন, পরিবেশ ধ্বংস করে এবং অন্যান্য উপজেলাকে বঞ্চিত করে কোনো একমুখী উন্নয়ন তারা মেনে নেবেন না। সমাবেশ শেষে আন্দোলনকারীরা জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর একটি স্মারকলিপিও প্রদান করেন।

ঐতিহ্য জাদুঘর প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিগত সরকারের সাবেক পরিকল্পনামন্ত্রী তাঁর ক্ষমতার অপব্যবহার করে জেলার বড় বড় উন্নয়ন প্রকল্প এবং এই বিশ্ববিদ্যালয়টি তাঁর নিজ এলাকা শান্তিগঞ্জের কাছাকাছি নিয়ে গেছেন।

এর ফলে জেলা সদরসহ বাকি ১১টি উপজেলার মানুষ চরম যাতায়াত বৈষম্যের শিকার হয়েছেন। সমাবেশে উপস্থিত বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বর্তমান সরকার যখন দেশ থেকে সব ধরনের বৈষম্য দূর করার অঙ্গীকার নিয়ে কাজ করছে, তখন সুনামগঞ্জের এই দীর্ঘদিনের বঞ্চনা ও আঞ্চলিক বৈষম্যের অবসান হওয়া অত্যন্ত জরুরি।

SBB 1

‎আন্দোলনকারীদের প্রধান আপত্তির জায়গা হচ্ছে ‘দেখার হাওর’। বক্তাদের মতে, এই হাওরটি সুনামগঞ্জের বোরো ধান ও মিঠা পানির মাছের অন্যতম প্রধান উৎস। সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কের পাশে ইতিমধ্যে মেডিকেল কলেজ ও টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট গড়ে ওঠায় ওই অঞ্চলের ওপর পরিবেশগত চাপ এমনিতেই বাড়ছে।

‎এখন যদি দেখার হাওর ভরাট করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সুউচ্চ ভবন ও অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়, তবে তা প্রাকৃতিক পরিবেশ ধ্বংস করবে। এতে দীর্ঘমেয়াদি জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হবে, যা শেষ পর্যন্ত জেলার সামগ্রিক কৃষি উৎপাদনে ধস নামাবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন পরিবেশ কর্মীরা।

‎শুধুমাত্র বিরোধিতাই নয়, আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে একটি যৌক্তিক বিকল্প প্রস্তাবও তুলে ধরা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় বাস্তবায়ন আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ জানান, সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার জুগীরগাঁও মৌজায় প্রায় ২১৮.৫৯ একর পতিত সরকারি খাস জমি রয়েছে। এই খাস জমিতে ক্যাম্পাস স্থাপন করা হলে সরকারের জমি অধিগ্রহণের পেছনে বিপুল পরিমাণ টাকা সাশ্রয় হবে।

‎একই সাথে স্থানটি অ-হাওর এলাকায় হওয়ায় পরিবেশের কোনো ক্ষতি হবে না এবং জেলা সদরের কাছাকাছি হওয়ায় সবকটি উপজেলার শিক্ষার্থীদের জন্য যাতায়াত করাও অনেক সুবিধাজনক হবে।

‎অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক চিত্ত রঞ্জন তালুকদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে বিএনপি, ছাত্রদলসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও পরিবেশবাদী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।

‎সমাবেশ শেষে একটি বিশাল গণমিছিল শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে শেষ হয় এবং সেখানে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি হস্তান্তর করা হয়।