০১:৩৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬
শীর্ষ ঋণগ্রহীতাদের সবাই বিরোধী শিবিরেরঃ

সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্যদের বড় অংশই উচ্চশিক্ষিত ও পেশাজীবী

হক বার্তা ডেস্ক রিপোর্টঃ
  • আপডেট সময়ঃ ১১:১৯:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬
  • / ১২ বার পড়া হয়েছে।

‎ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে নির্বাচিত ৫০ জন সংসদ সদস্যের ব্যক্তিগত ও আর্থিক তথ্যের এক চুলচেরা বিশ্লেষণ প্রকাশ করেছে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)। 

এই বিশ্লেষণে দেখা গেছে যে, নির্বাচিত সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্যদের মধ্যে যেমন উচ্চশিক্ষার হার সন্তোষজনক, তেমনি একটি উল্লেখযোগ্য অংশের রয়েছে বিপুল পরিমাণ ব্যাংক ঋণ ও দায়-দেনা। 

বিশেষ করে শীর্ষ ১০ জন ঋণগ্রহীতার সবাই বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোট থেকে নির্বাচিত হওয়ায় বিষয়টি রাজনৈতিক মহলে বিশেষ আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্যচিত্র তুলে ধরে সুজন। সংস্থাটি জানায়, নির্বাচিত ৫০ জন নারী এমপির হলফনামা পর্যালোচনা করে দেখা গেছে যে তাদের মধ্যে ২০ শতাংশ অর্থাৎ ১০ জন সদস্য বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছে দায়বদ্ধ।

এই ঋণগ্রহীতাদের মধ্যে চারজন রয়েছেন যাদের ঋণের পরিমাণ ১ কোটি টাকারও বেশি। শীর্ষ ঋণগ্রহীতাদের প্রায় সবাই বিএনপি থেকে নির্বাচিত হওয়া একটি উল্লেখযোগ্য দিক। এই তালিকায় দলটির প্রভাবশালী নেত্রী সেলিমা রহমান, হেলেন জেরিন খান, শিরিন সুলতানা এবং নিপুণ রায় চৌধুরীর মতো নামগুলো উঠে এসেছে। এছাড়া জামায়াতে ইসলামীর সাবিকুন্নাহারও শীর্ষ দশ ঋণগ্রহীতার মধ্যে রয়েছেন।

আর্থিক স্বচ্ছলতার দিক থেকে বিচার করলে দেখা যায়, সংরক্ষিত আসনের নারী সংসদ সদস্যদের মধ্যে কোটিপতি হওয়ার প্রবণতা গত সংসদের তুলনায় দ্বিগুণ বেড়েছে। দ্বাদশ সংসদে যেখানে মাত্র ৪ শতাংশ সদস্য কোটিপতি ছিলেন, এবার তা বেড়ে ৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। মজার বিষয় হলো, আয়ের তালিকায় যারা শীর্ষে অবস্থান করছেন, তাদের ১০ জনই বিএনপি থেকে নির্বাচিত। এর মধ্যে শামীম আরা বেগম স্বপ্না ৪ কোটি ২৬ লাখ টাকার বেশি বার্ষিক আয় নিয়ে তালিকার শীর্ষে রয়েছেন। আয়ের দিক থেকে তার পরেই রয়েছেন জহরত আদিব চৌধুরী এবং সাকিলা ফারজানা। তবে উচ্চ আয়ের পাশাপাশি নিম্ন আয়ের সদস্যদের সংখ্যাও এবার বেড়েছে। নির্বাচিতদের মধ্যে ৪০ শতাংশের বাৎসরিক আয় ৫ লাখ টাকার নিচে, যাদের একটি বড় অংশ জামায়াতে ইসলামী ও সমমনা জোটের সদস্য।

শিক্ষাগত যোগ্যতার বিচারে এবারের সংরক্ষিত আসনের এমপিরা বেশ অগ্রগামী। নির্বাচিতদের মধ্যে ৭৮ শতাংশই উচ্চশিক্ষিত, যার মধ্যে ৩০ জন স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী। পেশাগত ক্ষেত্রেও বৈচিত্র্য লক্ষ্য করা গেছে। আইন পেশা থেকে এসেছেন ১৫ জন সদস্য, যা প্রমাণ করে যে আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় তাদের দক্ষ অংশগ্রহণের সুযোগ রয়েছে।

এছাড়া উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সদস্য ব্যবসা ও শিক্ষকতা পেশার সঙ্গে যুক্ত। গৃহিণী পরিচয় দিয়ে সংসদে এসেছেন ৫ জন সদস্য এবং সরাসরি রাজনীতির কথা উল্লেখ করেছেন ৬ জন।

সংবাদ সম্মেলনে সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, সংরক্ষিত আসনের সদস্যদের তথ্য জনসম্মুখে আসা অত্যন্ত জরুরি কারণ তারা জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে নীতিনির্ধারণী ভূমিকা পালন করেন। দ্বাদশ সংসদের তুলনায় এবার উচ্চশিক্ষিত ও পেশাজীবী নারীর সংখ্যা বাড়লেও ঋণ এবং আয়ের অসমতা একটি বিশেষ বার্তা বহন করে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন সুজনের ঢাকা মহানগর কমিটির নেতৃবৃন্দ, যারা হলফনামার তথ্যের সত্যতা যাচাই এবং সংসদ সদস্যদের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

শীর্ষ ঋণগ্রহীতাদের সবাই বিরোধী শিবিরেরঃ

সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্যদের বড় অংশই উচ্চশিক্ষিত ও পেশাজীবী

আপডেট সময়ঃ ১১:১৯:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬

‎ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে নির্বাচিত ৫০ জন সংসদ সদস্যের ব্যক্তিগত ও আর্থিক তথ্যের এক চুলচেরা বিশ্লেষণ প্রকাশ করেছে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)। 

এই বিশ্লেষণে দেখা গেছে যে, নির্বাচিত সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্যদের মধ্যে যেমন উচ্চশিক্ষার হার সন্তোষজনক, তেমনি একটি উল্লেখযোগ্য অংশের রয়েছে বিপুল পরিমাণ ব্যাংক ঋণ ও দায়-দেনা। 

বিশেষ করে শীর্ষ ১০ জন ঋণগ্রহীতার সবাই বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোট থেকে নির্বাচিত হওয়ায় বিষয়টি রাজনৈতিক মহলে বিশেষ আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্যচিত্র তুলে ধরে সুজন। সংস্থাটি জানায়, নির্বাচিত ৫০ জন নারী এমপির হলফনামা পর্যালোচনা করে দেখা গেছে যে তাদের মধ্যে ২০ শতাংশ অর্থাৎ ১০ জন সদস্য বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছে দায়বদ্ধ।

এই ঋণগ্রহীতাদের মধ্যে চারজন রয়েছেন যাদের ঋণের পরিমাণ ১ কোটি টাকারও বেশি। শীর্ষ ঋণগ্রহীতাদের প্রায় সবাই বিএনপি থেকে নির্বাচিত হওয়া একটি উল্লেখযোগ্য দিক। এই তালিকায় দলটির প্রভাবশালী নেত্রী সেলিমা রহমান, হেলেন জেরিন খান, শিরিন সুলতানা এবং নিপুণ রায় চৌধুরীর মতো নামগুলো উঠে এসেছে। এছাড়া জামায়াতে ইসলামীর সাবিকুন্নাহারও শীর্ষ দশ ঋণগ্রহীতার মধ্যে রয়েছেন।

আর্থিক স্বচ্ছলতার দিক থেকে বিচার করলে দেখা যায়, সংরক্ষিত আসনের নারী সংসদ সদস্যদের মধ্যে কোটিপতি হওয়ার প্রবণতা গত সংসদের তুলনায় দ্বিগুণ বেড়েছে। দ্বাদশ সংসদে যেখানে মাত্র ৪ শতাংশ সদস্য কোটিপতি ছিলেন, এবার তা বেড়ে ৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। মজার বিষয় হলো, আয়ের তালিকায় যারা শীর্ষে অবস্থান করছেন, তাদের ১০ জনই বিএনপি থেকে নির্বাচিত। এর মধ্যে শামীম আরা বেগম স্বপ্না ৪ কোটি ২৬ লাখ টাকার বেশি বার্ষিক আয় নিয়ে তালিকার শীর্ষে রয়েছেন। আয়ের দিক থেকে তার পরেই রয়েছেন জহরত আদিব চৌধুরী এবং সাকিলা ফারজানা। তবে উচ্চ আয়ের পাশাপাশি নিম্ন আয়ের সদস্যদের সংখ্যাও এবার বেড়েছে। নির্বাচিতদের মধ্যে ৪০ শতাংশের বাৎসরিক আয় ৫ লাখ টাকার নিচে, যাদের একটি বড় অংশ জামায়াতে ইসলামী ও সমমনা জোটের সদস্য।

শিক্ষাগত যোগ্যতার বিচারে এবারের সংরক্ষিত আসনের এমপিরা বেশ অগ্রগামী। নির্বাচিতদের মধ্যে ৭৮ শতাংশই উচ্চশিক্ষিত, যার মধ্যে ৩০ জন স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী। পেশাগত ক্ষেত্রেও বৈচিত্র্য লক্ষ্য করা গেছে। আইন পেশা থেকে এসেছেন ১৫ জন সদস্য, যা প্রমাণ করে যে আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় তাদের দক্ষ অংশগ্রহণের সুযোগ রয়েছে।

এছাড়া উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সদস্য ব্যবসা ও শিক্ষকতা পেশার সঙ্গে যুক্ত। গৃহিণী পরিচয় দিয়ে সংসদে এসেছেন ৫ জন সদস্য এবং সরাসরি রাজনীতির কথা উল্লেখ করেছেন ৬ জন।

সংবাদ সম্মেলনে সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, সংরক্ষিত আসনের সদস্যদের তথ্য জনসম্মুখে আসা অত্যন্ত জরুরি কারণ তারা জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে নীতিনির্ধারণী ভূমিকা পালন করেন। দ্বাদশ সংসদের তুলনায় এবার উচ্চশিক্ষিত ও পেশাজীবী নারীর সংখ্যা বাড়লেও ঋণ এবং আয়ের অসমতা একটি বিশেষ বার্তা বহন করে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন সুজনের ঢাকা মহানগর কমিটির নেতৃবৃন্দ, যারা হলফনামার তথ্যের সত্যতা যাচাই এবং সংসদ সদস্যদের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।