ইজারাবহির্ভূত বনভূমি থেকে বেপরোয়া বালু উত্তোলনের অভিযোগ
- আপডেট সময়ঃ ১১:১৯:৪৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬
- / ২৯ বার পড়া হয়েছে।
হকবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট;
সুনামগঞ্জ ।। ০৩ অক্টোবর ২০২৬
সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার সোনাপুর ও পূর্ব সোনাপুর এলাকায় ইজারাবহির্ভূত সরকারি বন বিভাগের জায়গা দখল করে দিন-রাত অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে। শত শত ড্রেজার ও বালুবাহী নৌকা ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে সরকারি সম্পদ লুটপাট করা হলেও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হচ্ছে না কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ—এমনটাই দাবি বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর।
খাল থেকে নদী, বাড়ছে নদীভাঙন;
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, একসময় যে ‘গেদুর ঢালা খাল’ মানুষ হেঁটে বা অল্প পানিতে সহজেই পার হতো, তা অনবরত ও অপরিকল্পিত বালু উত্তোলনের ফলে আজ এক বিশাল ও গভীর নদীতে পরিণত হয়েছে। নদীর তীরবর্তী পাড় কেটে ড্রেজার বসিয়ে বালু তোলার কারণে আশপাশের এলাকায় তীব্র নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে করে বিলীন হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছে বসতভিটা ও ফসলি জমি।
তীব্র শব্দদূষণে ব্যাহত জনজীবন;
দিন-রাত সমানতালে চলা শত শত ড্রেজার মেশিনের বিকট শব্দ ও বালুবাহী নৌকার আনাগোণায় পুরো এলাকায় ভয়াবহ শব্দদূষণ সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে স্থানীয়দের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে প্রবীণ, শিশু ও রোগীদের চিকিৎসাসেবা এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ড্রেজারের শব্দের কারণে রাতের ঘুম হারাম হয়ে পড়েছে সোনাপুর ও আশপাশের গ্রামগুলোর বাসিন্দাদের।
প্রশাসনের নীরবতা ও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন;
এলাকাবাসীর অভিযোগ, সরকারি বন বিভাগের জমি অবৈধভাবে দখল করে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার বালু বাণিজ্য চালাচ্ছে এই শক্তিশালী চক্রটি। দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে এই অপকর্ম চললেও সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, স্থানীয় থানা পুলিশ ও নৌ পুলিশের রহস্যজনক নীরবতা নিয়ে জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। প্রভাবশালী চত্বরের ছত্রচ্ছায়ায়ই এই সিন্ডিকেট দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে বলে অভিযোগ সাধারণ মানুষের।
অভিযুক্ত ব্যক্তিদের তালিকা;
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগের ভিত্তিতে বালু উত্তোলনের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত ৩৩ জনের একটি তালিকা পাওয়া গেছে। অভিযুক্তরা হলেন:
১. জিয়াউর রহমান — পিতা: চমক আলী, গ্রাম: সোনাপুর
২. নুরুল ইসলাম (নুরু) — পিতা: মৃত আলকাছ মিয়া, গ্রাম: পূর্ব চাইরগাঁও
৩. জয়নাল আবেদীন (সাবেক মেম্বার) — গ্রাম: পূর্ব চাইরগাঁও
৪. ফয়েজ উদ্দিন (বর্তমান মেম্বার) — গ্রাম: রহিমের পাড়া
৫. বুলবুল হাজ্বী — গ্রাম: গণেশপুর, থানা: ছাতক
৬. আব্দুন নুর — পিতা: জিলু মিয়া, গ্রাম: চাইরগাঁও
৭. মাহবুবুল হক শামিম — পিতা: আব্দুল্লাহ, গ্রাম: বীরেন্দ্রনগর
৮. কবির মিয়া — পিতা: আরু মিয়া, গ্রাম: সোনাপুর
৯. মাসুক মিয়া — পিতা: ফজলু মিয়া, গ্রাম: হাবিব নগর
১০. এমরান মিয়া — পিতা: শাহজাহান (সপন), গ্রাম: হাবিব নগর
১১. মোহাম্মদ আলী — পিতা: জিয়াদ আলী, থানা: কোম্পানিগঞ্জ
১২. রায়হান মিয়া — পিতা: অজ্ঞাত, গ্রাম: নছর নগর
১৩. জহির হাজ্বী — গ্রাম: গণেশপুর, থানা: ছাতক
১৪. হানিফ আলী (৪০) — পিতা: হাবিব উল্লাহ, গ্রাম: সোনাপুর
১৫. হযরত আলী (২৬) — পিতা: হাবিবুল্লাহ, গ্রাম: সোনাপুর
১৬. সিদ্দেক আলী (৪২) — পিতা: ইসমাইল আলী, গ্রাম: পূর্ব সোনাপুর
১৭. শফিকুল ইসলাম (৩৮) — পিতা: সায়ু মিয়া, গ্রাম: সোনাপুর
১৮. দিলোয়ার হোসেন (৩৫) — পিতা: কদ্দুস আলী, গ্রাম: পূর্ব সোনাপুর
১৯. ইমরান আহমেদ (৩০) — পিতা: অজ্ঞাত, গ্রাম: হাবিব নগর
২০. নুর আলী (৪০) — পিতা: অজ্ঞাত, গ্রাম: পূর্ব সোনাপুর
২১. খলিলুর রহমান (৩৮) — পিতা: অজ্ঞাত, গ্রাম: রহমতপুর
২২. সাহেদ মিয়া (৩২) — পিতা: জিলু মিয়া, গ্রাম: রহিমের পাড়া
২৩. সাদ্দাম মিয়া (৩৮) — পিতা: ছুরুক মিয়া, গ্রাম: সোনাপুর
২৪. নুর আলম (৩০) — পিতা: হোসেন আলী, গ্রাম: সোনাপুর
২৫. মকসুদ রহমান মক্তই (৪৫) — পিতা: আরব আলী, গ্রাম: রহিমের পাড়া
২৬. নিজাম উদ্দিন (৫০) — পিতা: অজ্ঞাত, গ্রাম: হাবিব নগর
২৭. খোর্শেদ আলম (৩৮) — পিতা: অজ্ঞাত, গ্রাম: পূর্ব সোনাপুর
২৮. ছনির মিয়া (৩৫) — পিতা: আফজাল মিয়া, গ্রাম: সোনাপুর
২৯. বকুল মিয়া (৩৮) — পিতা: কদ্দুস আলী, গ্রাম: সোনাপুর
৩০. নুর আলম লিপি (৩০) — পিতা: আবু সোলাইমান
৩১. আজিজুর রহমান (২৮) — পিতা: অজ্ঞাত, গ্রাম: রহমতপুর
৩২. মোবারক আলী (৩৮) — পিতা: জিলু মিয়া, গ্রাম: পূর্ব সোনাপুর
৩৩. লিলু মিয়া (৩৬) — পিতা: মেয়াজান আলী, গ্রাম: সোনাপুর।
এ বিষয়ে দ্রুত কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ করে প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষা ও স্থানীয়দের ভোগান্তি দূর করার জন্য পরিবেশ অধিদপ্তর এবং জেলা প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী












