০৪:১৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬

ইজারাবহির্ভূত বনভূমি থেকে বেপরোয়া বালু উত্তোলনের অভিযোগ

হকবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময়ঃ ১১:১৯:৪৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬
  • / ২৯ বার পড়া হয়েছে।

 

 

হকবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট;

সুনামগঞ্জ ।। ০৩ অক্টোবর ২০২৬

 

 

সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার সোনাপুর ও পূর্ব সোনাপুর এলাকায় ইজারাবহির্ভূত সরকারি বন বিভাগের জায়গা দখল করে দিন-রাত অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে। শত শত ড্রেজার ও বালুবাহী নৌকা ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে সরকারি সম্পদ লুটপাট করা হলেও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হচ্ছে না কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ—এমনটাই দাবি বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর।

 

 

খাল থেকে নদী, বাড়ছে নদীভাঙন;

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, একসময় যে ‘গেদুর ঢালা খাল’ মানুষ হেঁটে বা অল্প পানিতে সহজেই পার হতো, তা অনবরত ও অপরিকল্পিত বালু উত্তোলনের ফলে আজ এক বিশাল ও গভীর নদীতে পরিণত হয়েছে। নদীর তীরবর্তী পাড় কেটে ড্রেজার বসিয়ে বালু তোলার কারণে আশপাশের এলাকায় তীব্র নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে করে বিলীন হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছে বসতভিটা ও ফসলি জমি।

 

 

তীব্র শব্দদূষণে ব্যাহত জনজীবন;

দিন-রাত সমানতালে চলা শত শত ড্রেজার মেশিনের বিকট শব্দ ও বালুবাহী নৌকার আনাগোণায় পুরো এলাকায় ভয়াবহ শব্দদূষণ সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে স্থানীয়দের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে প্রবীণ, শিশু ও রোগীদের চিকিৎসাসেবা এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ড্রেজারের শব্দের কারণে রাতের ঘুম হারাম হয়ে পড়েছে সোনাপুর ও আশপাশের গ্রামগুলোর বাসিন্দাদের।

 

 

প্রশাসনের নীরবতা ও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন;

এলাকাবাসীর অভিযোগ, সরকারি বন বিভাগের জমি অবৈধভাবে দখল করে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার বালু বাণিজ্য চালাচ্ছে এই শক্তিশালী চক্রটি। দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে এই অপকর্ম চললেও সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, স্থানীয় থানা পুলিশ ও নৌ পুলিশের রহস্যজনক নীরবতা নিয়ে জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। প্রভাবশালী চত্বরের ছত্রচ্ছায়ায়ই এই সিন্ডিকেট দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে বলে অভিযোগ সাধারণ মানুষের।

 

 

অভিযুক্ত ব্যক্তিদের তালিকা;

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগের ভিত্তিতে বালু উত্তোলনের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত ৩৩ জনের একটি তালিকা পাওয়া গেছে। অভিযুক্তরা হলেন:

১. জিয়াউর রহমান — পিতা: চমক আলী, গ্রাম: সোনাপুর

২. নুরুল ইসলাম (নুরু) — পিতা: মৃত আলকাছ মিয়া, গ্রাম: পূর্ব চাইরগাঁও

৩. জয়নাল আবেদীন (সাবেক মেম্বার) — গ্রাম: পূর্ব চাইরগাঁও

৪. ফয়েজ উদ্দিন (বর্তমান মেম্বার) — গ্রাম: রহিমের পাড়া

৫. বুলবুল হাজ্বী — গ্রাম: গণেশপুর, থানা: ছাতক

৬. আব্দুন নুর — পিতা: জিলু মিয়া, গ্রাম: চাইরগাঁও

৭. মাহবুবুল হক শামিম — পিতা: আব্দুল্লাহ, গ্রাম: বীরেন্দ্রনগর

৮. কবির মিয়া — পিতা: আরু মিয়া, গ্রাম: সোনাপুর

৯. মাসুক মিয়া — পিতা: ফজলু মিয়া, গ্রাম: হাবিব নগর

১০. এমরান মিয়া — পিতা: শাহজাহান (সপন), গ্রাম: হাবিব নগর

১১. মোহাম্মদ আলী — পিতা: জিয়াদ আলী, থানা: কোম্পানিগঞ্জ

১২. রায়হান মিয়া — পিতা: অজ্ঞাত, গ্রাম: নছর নগর

১৩. জহির হাজ্বী — গ্রাম: গণেশপুর, থানা: ছাতক

১৪. হানিফ আলী (৪০) — পিতা: হাবিব উল্লাহ, গ্রাম: সোনাপুর

১৫. হযরত আলী (২৬) — পিতা: হাবিবুল্লাহ, গ্রাম: সোনাপুর

১৬. সিদ্দেক আলী (৪২) — পিতা: ইসমাইল আলী, গ্রাম: পূর্ব সোনাপুর

১৭. শফিকুল ইসলাম (৩৮) — পিতা: সায়ু মিয়া, গ্রাম: সোনাপুর

১৮. দিলোয়ার হোসেন (৩৫) — পিতা: কদ্দুস আলী, গ্রাম: পূর্ব সোনাপুর

১৯. ইমরান আহমেদ (৩০) — পিতা: অজ্ঞাত, গ্রাম: হাবিব নগর

২০. নুর আলী (৪০) — পিতা: অজ্ঞাত, গ্রাম: পূর্ব সোনাপুর

২১. খলিলুর রহমান (৩৮) — পিতা: অজ্ঞাত, গ্রাম: রহমতপুর

২২. সাহেদ মিয়া (৩২) — পিতা: জিলু মিয়া, গ্রাম: রহিমের পাড়া

২৩. সাদ্দাম মিয়া (৩৮) — পিতা: ছুরুক মিয়া, গ্রাম: সোনাপুর

২৪. নুর আলম (৩০) — পিতা: হোসেন আলী, গ্রাম: সোনাপুর

২৫. মকসুদ রহমান মক্তই (৪৫) — পিতা: আরব আলী, গ্রাম: রহিমের পাড়া

২৬. নিজাম উদ্দিন (৫০) — পিতা: অজ্ঞাত, গ্রাম: হাবিব নগর

২৭. খোর্শেদ আলম (৩৮) — পিতা: অজ্ঞাত, গ্রাম: পূর্ব সোনাপুর

২৮. ছনির মিয়া (৩৫) — পিতা: আফজাল মিয়া, গ্রাম: সোনাপুর

২৯. বকুল মিয়া (৩৮) — পিতা: কদ্দুস আলী, গ্রাম: সোনাপুর

৩০. নুর আলম লিপি (৩০) — পিতা: আবু সোলাইমান

৩১. আজিজুর রহমান (২৮) — পিতা: অজ্ঞাত, গ্রাম: রহমতপুর

৩২. মোবারক আলী (৩৮) — পিতা: জিলু মিয়া, গ্রাম: পূর্ব সোনাপুর

৩৩. লিলু মিয়া (৩৬) — পিতা: মেয়াজান আলী, গ্রাম: সোনাপুর।

 

এ বিষয়ে দ্রুত কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ করে প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষা ও স্থানীয়দের ভোগান্তি দূর করার জন্য পরিবেশ অধিদপ্তর এবং জেলা প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী

ট্যাগসঃ

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

ইজারাবহির্ভূত বনভূমি থেকে বেপরোয়া বালু উত্তোলনের অভিযোগ

আপডেট সময়ঃ ১১:১৯:৪৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬

 

 

হকবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট;

সুনামগঞ্জ ।। ০৩ অক্টোবর ২০২৬

 

 

সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার সোনাপুর ও পূর্ব সোনাপুর এলাকায় ইজারাবহির্ভূত সরকারি বন বিভাগের জায়গা দখল করে দিন-রাত অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে। শত শত ড্রেজার ও বালুবাহী নৌকা ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে সরকারি সম্পদ লুটপাট করা হলেও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হচ্ছে না কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ—এমনটাই দাবি বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর।

 

 

খাল থেকে নদী, বাড়ছে নদীভাঙন;

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, একসময় যে ‘গেদুর ঢালা খাল’ মানুষ হেঁটে বা অল্প পানিতে সহজেই পার হতো, তা অনবরত ও অপরিকল্পিত বালু উত্তোলনের ফলে আজ এক বিশাল ও গভীর নদীতে পরিণত হয়েছে। নদীর তীরবর্তী পাড় কেটে ড্রেজার বসিয়ে বালু তোলার কারণে আশপাশের এলাকায় তীব্র নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে করে বিলীন হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছে বসতভিটা ও ফসলি জমি।

 

 

তীব্র শব্দদূষণে ব্যাহত জনজীবন;

দিন-রাত সমানতালে চলা শত শত ড্রেজার মেশিনের বিকট শব্দ ও বালুবাহী নৌকার আনাগোণায় পুরো এলাকায় ভয়াবহ শব্দদূষণ সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে স্থানীয়দের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে প্রবীণ, শিশু ও রোগীদের চিকিৎসাসেবা এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ড্রেজারের শব্দের কারণে রাতের ঘুম হারাম হয়ে পড়েছে সোনাপুর ও আশপাশের গ্রামগুলোর বাসিন্দাদের।

 

 

প্রশাসনের নীরবতা ও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন;

এলাকাবাসীর অভিযোগ, সরকারি বন বিভাগের জমি অবৈধভাবে দখল করে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার বালু বাণিজ্য চালাচ্ছে এই শক্তিশালী চক্রটি। দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে এই অপকর্ম চললেও সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, স্থানীয় থানা পুলিশ ও নৌ পুলিশের রহস্যজনক নীরবতা নিয়ে জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। প্রভাবশালী চত্বরের ছত্রচ্ছায়ায়ই এই সিন্ডিকেট দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে বলে অভিযোগ সাধারণ মানুষের।

 

 

অভিযুক্ত ব্যক্তিদের তালিকা;

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগের ভিত্তিতে বালু উত্তোলনের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত ৩৩ জনের একটি তালিকা পাওয়া গেছে। অভিযুক্তরা হলেন:

১. জিয়াউর রহমান — পিতা: চমক আলী, গ্রাম: সোনাপুর

২. নুরুল ইসলাম (নুরু) — পিতা: মৃত আলকাছ মিয়া, গ্রাম: পূর্ব চাইরগাঁও

৩. জয়নাল আবেদীন (সাবেক মেম্বার) — গ্রাম: পূর্ব চাইরগাঁও

৪. ফয়েজ উদ্দিন (বর্তমান মেম্বার) — গ্রাম: রহিমের পাড়া

৫. বুলবুল হাজ্বী — গ্রাম: গণেশপুর, থানা: ছাতক

৬. আব্দুন নুর — পিতা: জিলু মিয়া, গ্রাম: চাইরগাঁও

৭. মাহবুবুল হক শামিম — পিতা: আব্দুল্লাহ, গ্রাম: বীরেন্দ্রনগর

৮. কবির মিয়া — পিতা: আরু মিয়া, গ্রাম: সোনাপুর

৯. মাসুক মিয়া — পিতা: ফজলু মিয়া, গ্রাম: হাবিব নগর

১০. এমরান মিয়া — পিতা: শাহজাহান (সপন), গ্রাম: হাবিব নগর

১১. মোহাম্মদ আলী — পিতা: জিয়াদ আলী, থানা: কোম্পানিগঞ্জ

১২. রায়হান মিয়া — পিতা: অজ্ঞাত, গ্রাম: নছর নগর

১৩. জহির হাজ্বী — গ্রাম: গণেশপুর, থানা: ছাতক

১৪. হানিফ আলী (৪০) — পিতা: হাবিব উল্লাহ, গ্রাম: সোনাপুর

১৫. হযরত আলী (২৬) — পিতা: হাবিবুল্লাহ, গ্রাম: সোনাপুর

১৬. সিদ্দেক আলী (৪২) — পিতা: ইসমাইল আলী, গ্রাম: পূর্ব সোনাপুর

১৭. শফিকুল ইসলাম (৩৮) — পিতা: সায়ু মিয়া, গ্রাম: সোনাপুর

১৮. দিলোয়ার হোসেন (৩৫) — পিতা: কদ্দুস আলী, গ্রাম: পূর্ব সোনাপুর

১৯. ইমরান আহমেদ (৩০) — পিতা: অজ্ঞাত, গ্রাম: হাবিব নগর

২০. নুর আলী (৪০) — পিতা: অজ্ঞাত, গ্রাম: পূর্ব সোনাপুর

২১. খলিলুর রহমান (৩৮) — পিতা: অজ্ঞাত, গ্রাম: রহমতপুর

২২. সাহেদ মিয়া (৩২) — পিতা: জিলু মিয়া, গ্রাম: রহিমের পাড়া

২৩. সাদ্দাম মিয়া (৩৮) — পিতা: ছুরুক মিয়া, গ্রাম: সোনাপুর

২৪. নুর আলম (৩০) — পিতা: হোসেন আলী, গ্রাম: সোনাপুর

২৫. মকসুদ রহমান মক্তই (৪৫) — পিতা: আরব আলী, গ্রাম: রহিমের পাড়া

২৬. নিজাম উদ্দিন (৫০) — পিতা: অজ্ঞাত, গ্রাম: হাবিব নগর

২৭. খোর্শেদ আলম (৩৮) — পিতা: অজ্ঞাত, গ্রাম: পূর্ব সোনাপুর

২৮. ছনির মিয়া (৩৫) — পিতা: আফজাল মিয়া, গ্রাম: সোনাপুর

২৯. বকুল মিয়া (৩৮) — পিতা: কদ্দুস আলী, গ্রাম: সোনাপুর

৩০. নুর আলম লিপি (৩০) — পিতা: আবু সোলাইমান

৩১. আজিজুর রহমান (২৮) — পিতা: অজ্ঞাত, গ্রাম: রহমতপুর

৩২. মোবারক আলী (৩৮) — পিতা: জিলু মিয়া, গ্রাম: পূর্ব সোনাপুর

৩৩. লিলু মিয়া (৩৬) — পিতা: মেয়াজান আলী, গ্রাম: সোনাপুর।

 

এ বিষয়ে দ্রুত কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ করে প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষা ও স্থানীয়দের ভোগান্তি দূর করার জন্য পরিবেশ অধিদপ্তর এবং জেলা প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী