‘জকিগঞ্জে ‘ পারিবারিক বিরোধের জেরে,ছেলের আঘাতে মায়ের মৃত্যু:-গ্রেপ্তার ছেলে
- আপডেট সময়ঃ ০২:১৫:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
- / ২১ বার পড়া হয়েছে।
হকবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট;
সুনামগঞ্জ ।। ২৬ অক্টোবর ২০২৬
সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলায় জায়গা-সম্পত্তি নিজের নামে লিখে নেওয়া এবং টাকার জন্য পারিবারিক বিরোধের জেরে ছেলের হামলায় গুরুতর আহত পিয়ারা বেগম (৬৩) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। এ ঘটনায় আড়াই বছরের এক শিশুসহ পরিবারের আরও চার সদস্য গুরুতর আহত হয়েছেন। ঘটনার পরপরই প্রধান অভিযুক্ত ছেলে সুমন আহমদকে (৩২) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
রোববার (২৫ অক্টোবর) চিকিৎসাধীন অবস্থায় পিয়ারা বেগমের মৃত্যুর পর পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় হত্যা-সংক্রান্ত ধারা যুক্ত করা হচ্ছে। এর আগে গত রোববারই অভিযুক্ত সুমনকে আদালতে হাজির করা হলে জকিগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ইব্রাহিম সরকার তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
নিহত পিয়ারা বেগম জকিগঞ্জ পৌর এলাকার পঙ্গবট গ্রামের মৃত ফয়জুল ইসলামের স্ত্রী। অভিযুক্ত সুমন আহমদ ও মামলার বাদী শাহীন আহমদ একই পরিবারের সদস্য।
ঘটনার সূত্রপাত যেভাবে;
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বেশ কিছুদিন ধরে জায়গা-সম্পত্তি নিজের নামে লিখে দেওয়া এবং নেশার টাকার জন্য পরিবারের সদস্যদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে আসছিলেন সুমন আহমদ। এ নিয়ে পরিবারের সঙ্গে তার বিরোধ চলছিল।
গত শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) প্রথমে সৎমা কুটিনা বেগমকে (৪৫) লাঠি দিয়ে আঘাত করেন সুমন, এতে তার চোখে গুরুতর জখম হয়। পরে তাকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। এই হামলার পর পিয়ারা বেগম তার সৎমা কুটিনা বেগমকে নিজের অপর ছেলে শাহীন আহমদের ঘরে নিরাপদে আশ্রয় দেন।
রাতের আঁধারে বর্বরোচিত হামলা;
পরিবার সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত প্রায় ১১টার দিকে সুমন পুনরায় পরিবারের সদস্যদের কাছে টাকা দাবি করেন এবং বাড়ির জায়গা-সম্পত্তি তার নামে লিখে দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করেন। এ নিয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে তিনি লাঠি নিয়ে পরিবারের সদস্যদের ওপর বেধড়ক হামলা চালান।
হামলায় গুরুতর আহত হন—
পিয়ারা বেগম (৬৩)
সৎমা কুটিনা বেগম (৪৫)
ভাই শাহীন আহমদ (৩৮)
শাহীনের স্ত্রী শাহানা বেগম (৩২)
এবং তাদের আড়াই বছরের শিশুকন্যা ইসরাত জাহান।
স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে প্রথমে জকিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার মধ্যরাতে পিয়ারা বেগম মারা যান।
পরিবারের বক্তব্য;
মামলার বাদী ও নিহত নারীর ছেলে শাহীন আহমদ জানান, সম্পত্তি লিখে দেওয়া ও নেশার টাকার জন্য সুমন দীর্ঘদিন ধরে তাদের নির্যাতন ও চাপ দিয়ে আসছিল। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, হামলায় আহতদের মধ্যে তার স্ত্রী শাহানা বেগম ও শিশুকন্যা ইসরাত জাহানের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। এ ছাড়া সৎমা কুটিনা বেগমের চোখের আঘাতও গুরুতর। তিনি এ ঘটনার কঠোর বিচার দাবি করেন।
এ ঘটনায় শাহীন আহমদ বাদী হয়ে প্রধান অভিযুক্ত সুমন আহমদ ও তার ভাই শামীম আহমদকে (৪৭) আসামি করে জকিগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।
পুলিশের বক্তব্য;
জকিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক বলেন, “চিকিৎসাাধীন অবস্থায় পিয়ারা বেগমের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর আমাদের পক্ষ থেকে আইনগত প্রক্রিয়া নেওয়া হচ্ছে। নিহতের মৃত্যুর ঘটনায় এই মামলায় হত্যা-সংক্রান্ত দণ্ডবিধির ধারা যুক্ত করা হবে।”
তিনি আরও জানান, ঘটনার পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে প্রধান অভিযুক্ত সুমন আহমদকে তার বসতঘর থেকে গ্রেপ্তার করে। গত রোববার তাকে আদালতে সোপর্দ করা হলে বিচারক কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরেই এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। ইতিপূর্বেও সুমনের বিরুদ্ধে থানায় একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।



















