রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের হামলায় ৪ সাংবাদিকসহ আহত ১০, পুলিশ ভয়ে পালিয়েছে: প্রক্টর
- আপডেট সময়ঃ ১২:৪৬:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬
- / ২৪ বার পড়া হয়েছে।
হকবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট;
সুনামগঞ্জ ।। ০৫ অক্টোবর ২০২৬
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) সাংবাদিক ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর সশস্ত্র হামলার ঘটনায় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ক্যাম্পাস। হামলাকারীদের গ্রেপ্তার, ছাত্রত্ব ও সনদ বাতিল এবং নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থতার দায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও সংশ্লিষ্ট হল প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকরা।
রোববার (৪ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে এ হামলার ঘটনা ঘটে। দেশীয় অস্ত্র নিয়ে চালানো এই হামলায় চারজন পেশাগত দায়িত্ব পালনরত সাংবাদিকসহ অন্তত ১০ জন আহত হন।
আহত সাংবাদিকদের মধ্যে রয়েছেন ‘দ্য ডেইলি স্টার’-এর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি ও রাজশাহী ইউনিভার্সিটি রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি নূর আহসান মৃদুল, ‘আগামীর সময়’-এর জাহিদুল ইসলাম, ‘বিডিনিউজ২৪ ডটকম’-এর আরিফুজ্জামান কোরবান এবং ‘সমকাল’-এর মাইনুল ইসলাম রাজু। আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
রাতভর বিক্ষোভ ও উপ-উপাচার্য অবরুদ্ধ;
হামলার ঘটনার পর রাতভর ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন সাধারণ শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকরা। একপর্যায়ে মধ্যরাতে শহীদ জিয়াউর রহমান হলের প্রাধ্যক্ষের কার্যালয়ে অবস্থান নিলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মামুনুর রশীদসহ প্রশাসনের কয়েকজন কর্মকর্তা সেখানে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন।
বিক্ষোভকারীরা সোমবার দুপুরের মধ্যে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার, ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধকরণ এবং রাতের মধ্যে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের ছাত্রত্ব বাতিলের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের দাবি জানান।
বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, হামলার সময় প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকলেও তারা সাংবাদিকদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছেন। একই সঙ্গে ঘটনার সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ সরবরাহে হল প্রাধ্যক্ষ অস্বীকৃতি জানিয়েছেন বলেও তারা দাবি করেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাত সাড়ে ১টার দিকে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মামুনুর রশীদ বিক্ষোভকারীদের আশ্বাস দিয়ে বলেন, সোমবারই বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করে মামলা দায়ের করা হবে। বাকি দাবিগুলোর বিষয়েও নিয়ম অনুযায়ী ধাপে ধাপে প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
পরস্পরবিরোধী বক্তব্য ও তদন্ত কমিটি;
ঘটনার জন্য ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের অভিযুক্ত করেছেন প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকরা। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সহসভাপতি আহসান হাবিব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেন, কোনো নিরপেক্ষ সাংবাদিকের ওপর হামলা চালানো হয়নি। তার বক্তব্য অনুযায়ী, শহীদ জিয়াউর রহমান হলে এক সাবেক ছাত্রলীগ নেতাকে অবস্থান করতে দেখে তাকে ধরতে গেলে ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাথে সম্পৃক্ত কয়েকজন সাংবাদিক ছাত্রদল নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করতে আসেন এবং ছাত্রদল কেবল তা প্রতিরোধ করেছে।
এদিকে, হামলার ঘটনা তদন্তে দুই সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদ। সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সহসভাপতি এ বি এম ইজাজুল কবির রুয়েল ও মঞ্জুরুল আলম রিয়াদকে নিয়ে গঠিত এই কমিটিকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ক্লাস বর্জন ও মানববন্ধনের ডাক;
সাংবাদিকদের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক মোজাম্মেল হোসেন বকুল। তিনি জানান, আহত সাংবাদিকরা সকলেই এই বিভাগের শিক্ষার্থী।
ঘটনার প্রতিবাদে সোমবার বিভাগের সব ধরণের ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সকাল ১১টায় বিভাগের উদ্যোগে ক্যাম্পাসে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে এক প্রতিবাদী মানববন্ধনের কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।















