০৫:৩০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬

বালুমহাল ঘিরে ৫০ কোটি টাকার বাণিজ্যের অভিযোগ, যাদুকাটার সংকট গড়াল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে

স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময়ঃ ০৩:২৩:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬
  • / ২৬২ বার পড়া হয়েছে।

 

হকবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট;

সুনামগঞ্জ ।। ১১ অক্টোবর ২০২৬

 

সুনামগঞ্জের সীমান্তবর্তী ঐতিহ্যবাহী যাদুকাটা নদীর বালুমহাল ইজারা প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে চরম অনিশ্চয়তা ও অস্থিরতা। প্রভাবশালীদের অনৈতিক বাণিজ্য, কোটি কোটি টাকার লেনদেন এবং অনিয়মের অভিযোগে বর্তমানে স্থবির হয়ে পড়েছে নদীর স্বাভাবিক কার্যক্রম। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে স্থানীয় হাজার হাজার খেটে খাওয়া শ্রমিকের জীবনে—রোজগার বন্ধ হয়ে জীবিকা নিয়ে দিশেহারা তারা। সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, বিষযটি গুরুত্বের সাথে বিবেচনায় নিয়ে এরই মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় পর্যন্ত গড়িয়েছে।

 

 

৫০ কোটি টাকার ‘বাণিজ্য’ চক্রান্ত ও নেপথ্যের কলকাঠি;

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কৌশলগত ও অর্থনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যাদুকাটা নদীর বালুমহাল নিয়ন্ত্রণ নিতে একটি প্রভাবশালী রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে। ইজারা প্রক্রিয়াকে ঘিরে প্রায় ৫০ কোটি টাকার বিপুল পরিমাণ অনৈতিক লেনদেন বা বাণিজ্যের পাঁচতারা পরিকল্পনা করছে এই চক্রটি।

 

নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করে নিজস্ব স্বার্থ হাসিল ও একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তারের উদ্দেশ্যে প্রক্রিয়াটিতে জটিলতা তৈরি করা হয়েছে। ফলে আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতায় পড়ে বালুমহালের স্বাভাবিক ইজারা ও কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে।

 

কর্মহীন হাজারও শ্রমিক:

যাদুকাটা নদীকে কেন্দ্র করে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার অন্তত ২০ থেকে ৩০ হাজার শ্রমিক প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জীবন-জীবিকা নির্বাহ করেন। নদীর বালু উত্তোলন, বার্জ ও ট্রলারে লোড-আনলোড এবং পরিবহনের কাজ করেই চলে তাদের সংসার।

 

দীর্ঘদিন ধরে বালুমহাল বন্ধ থাকায় কাজ হারিয়ে চরম মানবিক ও অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছেন এসব সাধারণ মেহনতি মানুষ। শ্রমজীবী পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রতিদিনের উপার্জনে যাদের দিন চলে, এখন তাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। অনেক পরিবারে দিন এনে দিন খাওয়ার পথও বন্ধ।

 

এক স্থানীয় শ্রমিকের ক্ষোভ:

“ক্ষমতাবানরা ৫০ কোটি টাকার ব্যবসা হিসাব করতাছে, আর আমরা আইজ দুই বেলা না খাইয়া আছি। নদী বন্ধ থাকলে আমড়ার ছাওয়াল-পাওয়াল লইয়া কই যামু? আমরা কোনো রাজনীতি বা অনিয়ম বুঝি না, আমরা কাজ করে বাঁচতে চাই।”

 

বিষয়টি এখন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে;

বালুমহাল কেন্দ্রিক এই চরম অনিয়ম, বিশাল অঙ্কের অর্থ লেনদেনের অপচেষ্টা এবং তার ফলে তৈরি হওয়া শ্রমিক অসন্তোষের বিষয়টি আর স্থানীয় প্রশাসনের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নেই। সংশ্লিষ্ট উচ্চপদস্থ সূত্রের খবর, সার্বিক পরিস্থিতি ও প্রভাবশালী চক্রের দৌরাত্ম্য সংবলিত বিশদ তথ্য এখন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের (পিএমও) নজরে আনা হয়েছে।

 

 

অবৈধ বাণিজ্য নস্যাৎ করা, প্রকৃত রাজস্ব আদায় নিশ্চিত করা এবং শ্রমজীবী মানুষের রুটি-রুজির সংকট নিরসনে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে কঠোর পদক্ষেপ বা নির্দেশনার অপেক্ষা করা হচ্ছে।

 

নদীর ইকোসি ও জনস্বার্থ রক্ষার আকুল আবেদন

পরিবেশবিদ ও স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, যাদুকাটা নদী শুধু অর্থনৈতিক কেন্দ্রই নয়, এটি এই অঞ্চলের প্রাকৃতিক ভারসাম্যের অন্যতম প্রধান উৎস। প্রভাবশালীদের হাত থেকে বালুমহালকে মুক্ত করে স্বচ্ছ, আইনি ও পরিবেশবান্ধব প্রক্রিয়ায় দ্রুত সমাধান না আনলে একদিকে যেমন রাষ্ট্র বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাবে, অন্যদিকে চরম সামাজিক ও অর্থনৈতিক বিপর্যয় নেমে আসবে পুরো হাওর অঞ্চলে।

 

সাধারণ শ্রমিকদের দাবি একটাই—অবিলম্বে সিন্ডিকেটের কারসাজি ভেঙে নদীর ইজারা জটিলতা নিরসন করে তাদের কর্মসংস্থানের পরিবেশ ফিরিয়ে দেওয়া হোক।

ট্যাগসঃ

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

বালুমহাল ঘিরে ৫০ কোটি টাকার বাণিজ্যের অভিযোগ, যাদুকাটার সংকট গড়াল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে

আপডেট সময়ঃ ০৩:২৩:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬

 

হকবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট;

সুনামগঞ্জ ।। ১১ অক্টোবর ২০২৬

 

সুনামগঞ্জের সীমান্তবর্তী ঐতিহ্যবাহী যাদুকাটা নদীর বালুমহাল ইজারা প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে চরম অনিশ্চয়তা ও অস্থিরতা। প্রভাবশালীদের অনৈতিক বাণিজ্য, কোটি কোটি টাকার লেনদেন এবং অনিয়মের অভিযোগে বর্তমানে স্থবির হয়ে পড়েছে নদীর স্বাভাবিক কার্যক্রম। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে স্থানীয় হাজার হাজার খেটে খাওয়া শ্রমিকের জীবনে—রোজগার বন্ধ হয়ে জীবিকা নিয়ে দিশেহারা তারা। সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, বিষযটি গুরুত্বের সাথে বিবেচনায় নিয়ে এরই মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় পর্যন্ত গড়িয়েছে।

 

 

৫০ কোটি টাকার ‘বাণিজ্য’ চক্রান্ত ও নেপথ্যের কলকাঠি;

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কৌশলগত ও অর্থনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যাদুকাটা নদীর বালুমহাল নিয়ন্ত্রণ নিতে একটি প্রভাবশালী রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে। ইজারা প্রক্রিয়াকে ঘিরে প্রায় ৫০ কোটি টাকার বিপুল পরিমাণ অনৈতিক লেনদেন বা বাণিজ্যের পাঁচতারা পরিকল্পনা করছে এই চক্রটি।

 

নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করে নিজস্ব স্বার্থ হাসিল ও একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তারের উদ্দেশ্যে প্রক্রিয়াটিতে জটিলতা তৈরি করা হয়েছে। ফলে আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতায় পড়ে বালুমহালের স্বাভাবিক ইজারা ও কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে।

 

কর্মহীন হাজারও শ্রমিক:

যাদুকাটা নদীকে কেন্দ্র করে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার অন্তত ২০ থেকে ৩০ হাজার শ্রমিক প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জীবন-জীবিকা নির্বাহ করেন। নদীর বালু উত্তোলন, বার্জ ও ট্রলারে লোড-আনলোড এবং পরিবহনের কাজ করেই চলে তাদের সংসার।

 

দীর্ঘদিন ধরে বালুমহাল বন্ধ থাকায় কাজ হারিয়ে চরম মানবিক ও অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছেন এসব সাধারণ মেহনতি মানুষ। শ্রমজীবী পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রতিদিনের উপার্জনে যাদের দিন চলে, এখন তাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। অনেক পরিবারে দিন এনে দিন খাওয়ার পথও বন্ধ।

 

এক স্থানীয় শ্রমিকের ক্ষোভ:

“ক্ষমতাবানরা ৫০ কোটি টাকার ব্যবসা হিসাব করতাছে, আর আমরা আইজ দুই বেলা না খাইয়া আছি। নদী বন্ধ থাকলে আমড়ার ছাওয়াল-পাওয়াল লইয়া কই যামু? আমরা কোনো রাজনীতি বা অনিয়ম বুঝি না, আমরা কাজ করে বাঁচতে চাই।”

 

বিষয়টি এখন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে;

বালুমহাল কেন্দ্রিক এই চরম অনিয়ম, বিশাল অঙ্কের অর্থ লেনদেনের অপচেষ্টা এবং তার ফলে তৈরি হওয়া শ্রমিক অসন্তোষের বিষয়টি আর স্থানীয় প্রশাসনের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নেই। সংশ্লিষ্ট উচ্চপদস্থ সূত্রের খবর, সার্বিক পরিস্থিতি ও প্রভাবশালী চক্রের দৌরাত্ম্য সংবলিত বিশদ তথ্য এখন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের (পিএমও) নজরে আনা হয়েছে।

 

 

অবৈধ বাণিজ্য নস্যাৎ করা, প্রকৃত রাজস্ব আদায় নিশ্চিত করা এবং শ্রমজীবী মানুষের রুটি-রুজির সংকট নিরসনে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে কঠোর পদক্ষেপ বা নির্দেশনার অপেক্ষা করা হচ্ছে।

 

নদীর ইকোসি ও জনস্বার্থ রক্ষার আকুল আবেদন

পরিবেশবিদ ও স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, যাদুকাটা নদী শুধু অর্থনৈতিক কেন্দ্রই নয়, এটি এই অঞ্চলের প্রাকৃতিক ভারসাম্যের অন্যতম প্রধান উৎস। প্রভাবশালীদের হাত থেকে বালুমহালকে মুক্ত করে স্বচ্ছ, আইনি ও পরিবেশবান্ধব প্রক্রিয়ায় দ্রুত সমাধান না আনলে একদিকে যেমন রাষ্ট্র বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাবে, অন্যদিকে চরম সামাজিক ও অর্থনৈতিক বিপর্যয় নেমে আসবে পুরো হাওর অঞ্চলে।

 

সাধারণ শ্রমিকদের দাবি একটাই—অবিলম্বে সিন্ডিকেটের কারসাজি ভেঙে নদীর ইজারা জটিলতা নিরসন করে তাদের কর্মসংস্থানের পরিবেশ ফিরিয়ে দেওয়া হোক।