সম্পাদকীয়
শ্রমিকের ন্যায্য দাবি মানুন, দমন নয়—সমাধান দিন
- আপডেট সময়ঃ ১০:১১:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬
- / ১৬ বার পড়া হয়েছে।
সম্পাদকীয়:
শ্রমিকের ন্যায্য দাবি মানুন, দমন নয়—সমাধান দিন
দেশের গার্মেন্টস শ্রমিকদের ৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরির দাবি কি অযৌক্তিক? বর্তমান ন্যূনতম মজুরি ১২ হাজার ৫০০ টাকা; অথচ বাড়িভাড়া, খাবার, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও চিকিৎসার খরচ বেড়েই চলেছে।
একজন শ্রমিকের মাসিক বেতন যদি ১২ হাজার টাকাও হয়, তার মধ্যে ৮–৯ হাজার টাকা বাড়িভাড়া চলে গেলে খাবার, সন্তানদের পড়াশোনা ও চিকিৎসার খরচ চলবে কীভাবে? শ্রমিকেরা কি মানুষ নন, তাঁদের কি পরিবার নেই?
সরকারি কর্মচারীদের বেতন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরির প্রশ্নেও মানবিক বিবেচনা থাকা জরুরি। মালিকপক্ষের সমস্যা আছে, অর্থনীতির চাপ আছে—কিন্তু সেই চাপের সব বোঝা শ্রমিকের কাঁধে চাপানো যায় না।
শ্রমিকদের আন্দোলনে সহিংসতা, ভাঙচুর কিংবা জনদুর্ভোগ সৃষ্টি সমর্থনযোগ্য নয়। কিন্তু দাবি আদায়ের নামে বিশৃঙ্খলা যেমন গ্রহণযোগ্য নয়, তেমনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষার নামে পুলিশি নির্যাতনও গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। অভিযোগ থাকলে নিরপেক্ষ তদন্ত হোক, দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
সরকারকে মনে রাখতে হবে, মানুষের পেটের ক্ষুধা ও জীবনের সংকটকে শুধু আইনশৃঙ্খলার সমস্যা হিসেবে দেখলে চলবে না। সিএনজি ও রিকশাচালক থেকে শুরু করে গার্মেন্টস শ্রমিক—সাধারণ মানুষের অসন্তোষ ক্রমাগত বাড়তে থাকলে তা রাজনৈতিক পরিণতিও হতে পারে। শ্রমিক আন্দোলন যেন বৃহত্তর সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ না নেয়, সে দায়িত্বও সরকারের বিবেচনায় রাখা উচিত।
পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে—তারা কি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করছে, নাকি অতিরিক্ত বলপ্রয়োগে পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে? সরকারকে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখতে হবে।
আমরা গার্মেন্টস শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরির দাবির প্রতি সংহতি জানাই। দমন নয়, সংলাপ চাই; আশ্বাস নয়, বাস্তবসম্মত মজুরি চাই। শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করুন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ করুন এবং পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যাওয়ার আগেই কার্যকর সমাধান দিন।
দৈনিক হক বার্তা (অন্তরালের খবর) সুনামগঞ্জ



















