০৫:৩১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬

‎চিরবিদায় নিলেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেতা শামস সুমন

হক বার্তা ডেস্ক রিপোর্টঃ
  • আপডেট সময়ঃ ০৯:১২:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬
  • / ১৭ বার পড়া হয়েছে।

দেশের অভিনয় জগতের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র নিভে গেল। না ফেরার দেশে চলে গেছেন গুণী অভিনেতা ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব শামস সুমন। 

মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে রাজধানীর গ্রিন রোড এলাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। 

মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬১ বছর। তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

 

পরিবার ও সহকর্মীদের সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার বিকেল পাঁচটার পর হঠাৎ করেই অসুস্থবোধ করেন এই অভিনেতা। তৎক্ষণাৎ তিনি তাঁর অসুস্থতার কথা সহকর্মী অভিনেতা শাহাদৎ হোসেনকে জানান।

অবস্থার অবনতি হলে শাহাদৎ হোসেন দ্রুত তাঁকে নিকটস্থ একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান।

তবে চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে সন্ধ্যায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। অভিনেতা সুজাত শিমুল চিকিৎসকদের বরাতে নিশ্চিত করেছেন যে, মূলত কার্ডিয়াক অ্যারেস্টে আক্রান্ত হয়েই শামস সুমনের মৃত্যু হয়েছে।

 

‎এক সময়ের টেলিভিশন নাটকের অত্যন্ত জনপ্রিয় মুখ শামস সুমন তাঁর ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন মঞ্চ থেকে। এরপর ছোট পর্দা এবং বড় পর্দা—উভয় মাধ্যমেই তিনি নিজের অভিনয়ের মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন।

যদিও গত কয়েক বছর ধরে টেলিভিশন নাটকে তাঁকে খুব একটা নিয়মিত দেখা যাচ্ছিল না, তবুও তাঁর অভিনীত চরিত্রগুলো দর্শকদের মনে চিরস্থায়ী জায়গা করে নিয়েছে।

‎অভিনয় জীবনে তাঁর প্রাপ্তির ঝুলিও ছিল বেশ সমৃদ্ধ। ২০০৮ সালে ‘স্বপ্নপূরণ’ চলচ্চিত্রে পার্শ্বচরিত্রে অসাধারণ অভিনয়ের জন্য তিনি শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেতা বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন। তাঁর অভিনীত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে ‘জয়যাত্রা’, ‘বিদ্রোহী পদ্মা’, ‘আয়না কাহিনি’, ‘মন জানে না মনের ঠিকানা’, ‘চোখের দেখা’ এবং ‘হ্যালো অমিত’।

অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি পেশাগত জীবনেও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছিলেন। মৃত্যু পর্যন্ত তিনি রেডিও ভূমির স্টেশন প্রধান এবং চ্যানেল আই-এর অনুষ্ঠান বিভাগের পরিচালক হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন।

 

‎এই প্রিয় অভিনেতাকে শেষ বিদায় জানানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। বুধবার সকাল ১০টায় চ্যানেল আই প্রাঙ্গণে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর তাঁর মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে নিজ জন্মভূমি রাজশাহীতে।

সেখানে পারিবারিক কবরস্থানে বুধবার সন্ধ্যায় তাঁকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হবে। তাঁর অকাল প্রয়াণে সাংস্কৃতিক অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

 

 

 

ট্যাগসঃ

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

‎চিরবিদায় নিলেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেতা শামস সুমন

আপডেট সময়ঃ ০৯:১২:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬

দেশের অভিনয় জগতের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র নিভে গেল। না ফেরার দেশে চলে গেছেন গুণী অভিনেতা ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব শামস সুমন। 

মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে রাজধানীর গ্রিন রোড এলাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। 

মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬১ বছর। তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

 

পরিবার ও সহকর্মীদের সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার বিকেল পাঁচটার পর হঠাৎ করেই অসুস্থবোধ করেন এই অভিনেতা। তৎক্ষণাৎ তিনি তাঁর অসুস্থতার কথা সহকর্মী অভিনেতা শাহাদৎ হোসেনকে জানান।

অবস্থার অবনতি হলে শাহাদৎ হোসেন দ্রুত তাঁকে নিকটস্থ একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান।

তবে চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে সন্ধ্যায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। অভিনেতা সুজাত শিমুল চিকিৎসকদের বরাতে নিশ্চিত করেছেন যে, মূলত কার্ডিয়াক অ্যারেস্টে আক্রান্ত হয়েই শামস সুমনের মৃত্যু হয়েছে।

 

‎এক সময়ের টেলিভিশন নাটকের অত্যন্ত জনপ্রিয় মুখ শামস সুমন তাঁর ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন মঞ্চ থেকে। এরপর ছোট পর্দা এবং বড় পর্দা—উভয় মাধ্যমেই তিনি নিজের অভিনয়ের মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন।

যদিও গত কয়েক বছর ধরে টেলিভিশন নাটকে তাঁকে খুব একটা নিয়মিত দেখা যাচ্ছিল না, তবুও তাঁর অভিনীত চরিত্রগুলো দর্শকদের মনে চিরস্থায়ী জায়গা করে নিয়েছে।

‎অভিনয় জীবনে তাঁর প্রাপ্তির ঝুলিও ছিল বেশ সমৃদ্ধ। ২০০৮ সালে ‘স্বপ্নপূরণ’ চলচ্চিত্রে পার্শ্বচরিত্রে অসাধারণ অভিনয়ের জন্য তিনি শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেতা বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন। তাঁর অভিনীত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে ‘জয়যাত্রা’, ‘বিদ্রোহী পদ্মা’, ‘আয়না কাহিনি’, ‘মন জানে না মনের ঠিকানা’, ‘চোখের দেখা’ এবং ‘হ্যালো অমিত’।

অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি পেশাগত জীবনেও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছিলেন। মৃত্যু পর্যন্ত তিনি রেডিও ভূমির স্টেশন প্রধান এবং চ্যানেল আই-এর অনুষ্ঠান বিভাগের পরিচালক হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন।

 

‎এই প্রিয় অভিনেতাকে শেষ বিদায় জানানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। বুধবার সকাল ১০টায় চ্যানেল আই প্রাঙ্গণে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর তাঁর মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে নিজ জন্মভূমি রাজশাহীতে।

সেখানে পারিবারিক কবরস্থানে বুধবার সন্ধ্যায় তাঁকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হবে। তাঁর অকাল প্রয়াণে সাংস্কৃতিক অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।