রাজধানীতে মাঝরাতে ডিবির রুদ্ধশ্বাস অভিযানঃ
গ্রেপ্তার সাবেক এমপি ও জাপা নেতা শরিফুল ইসলাম জিন্নাহ
- আপডেট সময়ঃ ০৭:২০:৫৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬
- / ১১ বার পড়া হয়েছে।
ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী পরিস্থিতিতে দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর অবশেষে পুলিশের জালে ধরা পড়েছেন বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এবং জাতীয় পার্টির (জাপা) কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান শরিফুল ইসলাম জিন্নাহ। গতকাল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত তিনটার দিকে রাজধানীর রমনা থানা এলাকায় পরিচালিত এক বিশেষ অভিযানে তাঁকে গ্রেপ্তার করে বগুড়া জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
গত জুলাই ও আগস্টের গণ-আন্দোলনের সময় হামলা ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ডজনখানেক মামলার বোঝা মাথায় নিয়ে তিনি রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে পালিয়ে বেড়াচ্ছিলেন।
বগুড়া জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি চৌকস দল বেশ কিছুদিন ধরেই শরিফুল ইসলামের অবস্থান শনাক্ত করার চেষ্টা করছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, তিনি রাজধানীর রমনা থানা এলাকায় একটি গোপন আস্তানায় অবস্থান করছেন। সেই তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে ডিবির একটি দল সেখানে অভিযান চালায়। কোনো প্রকার প্রতিরোধের সুযোগ না দিয়েই তাকে হেফাজতে নেয় পুলিশ।
বগুড়া জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখার ইনচার্জ ইকবাল বাহার গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, তাঁকে এরই মধ্যে বগুড়ায় নিয়ে আসা হয়েছে এবং আইনগত প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
মামলার পাহাড়: ১২টি অভিযোগের খতিয়ানঃ
৫ই আগস্টের পটপরিবর্তনের পর শরিফুল ইসলাম জিন্নাহর বিরুদ্ধে মামলার পাহাড় জমতে শুরু করে। ডিবি সূত্রে জানা গেছে, জুলাই মাসে ছাত্র-জনতার যৌক্তিক আন্দোলনে হামলা এবং হত্যাকাণ্ডের প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে অন্তত ১২টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এর মধ্যে ২০২৪ সালের ৭ই আগস্ট বগুড়ার শিবগঞ্জ থানায় একটি বিস্ফোরক আইনে মামলা দায়ের করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক পর্যায়ে এই বিস্ফোরক মামলাতেই তাঁকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আজ শুক্রবার সকালেই আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। তদন্তের প্রয়োজনে তাঁকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন করা হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছে পুলিশ।
তিনবারের এমপি থেকে জামানত হারানোর গল্পঃ
শরিফুল ইসলাম জিন্নাহর রাজনৈতিক ক্যারিয়ার যেমন উত্থানে ভরা ছিল, তেমনি এর পতনও ছিল নাটকীয়। তিনি জাতীয় পার্টির ব্যানারে বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসন থেকে টানা তিনবার সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। দলটির কেন্দ্রীয় কমিটিতে ভাইস চেয়ারম্যান এবং জেলা সভাপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ পদেও তিনি আসীন ছিলেন।
তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গত ১২ই ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে তাঁর জনপ্রিয়তা তলানিতে গিয়ে ঠেকে। সেই নির্বাচনে ধানের শীষের প্রার্থী মীর শাহে আলমের কাছে তিনি শোচনীয়ভাবে পরাজিত হন এবং একপর্যায়ে তাঁর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। যদিও ভোটের দিন শেষ হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে এক বিবৃতিতে তিনি অভিযোগ করেছিলেন যে, নির্বাচনের পরিবেশ অনুকূলে নেই- তাই তিনি ব্যক্তিগতভাবে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিচ্ছেন।
টানা তিনবারের এমপির গ্রেপ্তারের খবরে তাঁর নির্বাচনী এলাকা শিবগঞ্জসহ পুরো বগুড়ায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়দের একটি বড় অংশ ছাত্র আন্দোলনে তাঁর ভূমিকার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করছেন। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অন্যান্য মামলার ক্ষেত্রেও তাঁকে পর্যায়ক্রমে গ্রেপ্তার দেখানো হতে পারে এবং তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সুনির্দিষ্ট অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তথ্যসহায়তাঃপ্রথমআলো




















